‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে : কমলেশ^র মুখোপাধ্যায়

শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯

ডাক্তারি ছেড়ে পরিচালনায়। দ্বিতীয় সিনেমা ‘মেঘে ঢাকা তারা’ দেখে নড়েচড়ে বসেছিল গোটা টলিউড। এরপর একে একে তৈরি করেন ‘চাঁদের পাহাড়’, ‘আমাজন অভিযান’, ‘ক্ষত’র মতো সিনেমা। সম্প্রতি তারই সিনেমা ‘পাসওয়ার্ড’র প্রমোশনে এসেছিলেন বাংলাদেশে। মেলার সঙ্গে আলাপ হয় গুণী নির্মাতা কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের। সঙ্গে ছিলেন শ্রাবণী হালদার

কলকাতা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তবু ডাক্তারি ছেড়ে শুরু করলেন ফিল্ম মেকিং। পরিচালক হওয়ার ইচ্ছেটা কেন হয়েছিল?

কমলেশ^র : অনেককাল আগে থেকেই লেখালেখি করতাম। থিয়েটারে অভিনয়ের সঙ্গেও ছিলাম। বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেছি। এই প্যাশনটা আসলে শুরু থেকেই ছিল। সব মিলিয়ে মনটা এদিকেই টানলো।

‘মেঘে ঢাকা তারা’য় ঋত্বিক কুমার ঘটককে পর্দায় তুলে এনেছেন। শুরুতে এই পরিচালককেই কেন বেছে নিলেন?

কমলেশ^র : ঋত্বিকবাবু আমার খুব প্রিয় মানুষ। খুবই শ্রদ্ধার। সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে তার বিষয় নির্বাচনের ব্যাপারটা আমার খুব ভালো লাগে। আর একটা ব্যাপার হচ্ছে, ঋত্বিক কুমারের মধ্যে পার্টিশনের যে জ¦ালাটা কাজ করত, সেটা নিয়ে আরেকবার প্রশ্ন তোলার জন্য আসলে সিনেমাটি নির্মাণ করেছি।

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন কিংবা ঋতুপর্ণ ঘোষ- তাদের নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ আছে কি?

কমলেশ^র : আপাতত ভাবছি না। আসলে মহৎ লোককে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন হয়। সম্ভব হলে নিশ্চয়ই করব।

‘চাঁদের পাহাড়’, ‘আমাজন অভিযান’র মতো সিনেমাও রয়েছে আপনার নির্মাণের তালিকায়। জঙ্গল কি আপনার খুব পছন্দের? নাকি কারণটা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়?

কমলেশ^র : জঙ্গল প্রিয়। তার থেকে বেশি প্রিয় বিভূতিভূষণ। সেটা একটা কারণ। আর একটা কারণ, আমি নিজেও অ্যাডভেঞ্চার খুব ভালোবাসি। অ্যাডভেঞ্চারের সিনেমা দেখতেও ভালোবাসি।

এ ধরনের সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে কাঠখড় পোড়াতে হয় বেশি। ঝুঁকি যেমন থাকে, থাকে বাজেটের ভাবনাও। ‘আমাজন অভিযান’ যেমন সর্বোচ্চ বাজেটের বাংলা সিনেমা। তবু কিন্তু আপনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে যাচ্ছেন…

কমলেশ^র : ছবিগুলো করতে প্রডিউসাররা অনেক বড় হেল্প করেছিলেন। কেন তারা হেল্প করলেন সেটা আমার পক্ষে বলা মুশকিল। হয়তো তারা ভেবেছিলেন এমন ছবি করা সম্ভব। তাই কাজগুলো হয়েছিল।

পরবর্তী প্রজেক্ট কি? আর কোনো সাহিত্যিকের গল্প-উপন্যাস নিয়ে কাজ কবে দেখতে পারব?

কমলেশ^র : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে। কবে নাগাদ শুরু করব, এখনই বলতে পারছি না। শুধু ইচ্ছে থাকলেই হয় না, প্রডিউসার পাওয়ারও একটা ব্যাপার আছে।

একদিকে ক্ষত, ককপিট, পাসওয়ার্ডের মতো সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সিনেমা যেমন বানাচ্ছেন তেমনি ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘চাঁদের পাহাড়’, ‘দ্য হাঙ্গার আর্টিস্ট’ করেছেন। বেসিক্যালি আপনার নিজের ভালোলাগার ঘরানা কোনটি?

কমলেশ^র : আমি আসলে সেইফ জোনে বিশ^াস করি না। প্রত্যেকটা সিনেমাতেই চেষ্টা করি, যাতে এক্সপেরিমেন্ট করা যায়; আরেকটু নতুন কিছু করা যায়।

আপনাকে বিভিন্ন সময় বামরাজনীতির পক্ষে কথা বলতে দেখা গেছে। রাজনীতির সঙ্গে কি ছাত্রজীবন থেকেই সম্পর্ক?

কমলেশ^র : ছাত্ররাজনীতির প্রভাব আমার মধ্যে আছে। ছাত্র অবস্থা কেটে গেলেও রাজনৈতিক দর্শনটা থেকে গেছে। এখন অ্যাকটিভলি হয়তো রাজনীতি করি না, তবে রাজনৈতিক যোগাযোগটা আমার আছে।

ভবিষ্যতে সরাসরি রাজনীতির মাঠে আপনাকে দেখা যাবে কিনা?

কমলেশ^র : না, তা মনে হয় না। আমি নিজেকে রাজনীতি করা লোক বলে বিশ^াস করি না। মনে হয় না আমি রাজনীতি খুব ভালো করতে পারব! তবে এটা আমার স্থির বিশ^াস, যেকোনো মানুষেরই একটা রাজনৈতিক দর্শন থাকে, তেমন একটা দর্শন আমার আছে। আর সে দর্শনটা অবশ্যই রাখব।

এই যে প্রথমবার সিনেমা নিয়ে বাংলাদেশে আসা। ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে আসা। কিন্তু এমন যদি হয়, আমরা আমাদের সিনেমায় সরাসরি আপনাকে চাই। তাহলে কি পাব?

কমলেশ^র : অবশ্যই। অবশ্যই। (কণ্ঠে জোর দিয়ে) নিশ্চয়ই চাইবো। আমারই তো লেখা ডায়লগ, ‘বাংলার মাটি কখনো পর হয় নাকি!’।

এ দেশের সিনেমা কি দেখা হয়?

কমলেশ^র : হয় না তো। কিন্তু আমরা চাই দেখা হোক।

এ দেশের তারকা জয়া আহসান, শাকিব খান। আপনাদের ওখানেও জনপ্রিয়…

কমলেশ^র : (কথা কেড়ে নিয়ে) দুজনেই ভীষণভাবে সফল এবং ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রীও বটে।

জয়া আহসানকে নিয়ে কি কাজ করার ইচ্ছে আছে?

কমলেশ^র : জয়ার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। কাজ কারার কথাবার্তাও চলছে।

আরেকটু খোলসা করে কি বলা যাবে?

কমলেশ^র : এখনো বলা যাবে না এজন্য, কারণ জয়াকে ডেট দিয়ে পারমিশন নিতে হবে।

বাংলাদেশের সিনেমা বাজার নিয়ে আপনার ভাবনাটা কেমন? আমাদের এখানেও কিন্তু সংকটকাল চলছে।

কমলেশ^র : বিভিন্ন সময়ে কখনো বাজার ভালো থাকে না, কখনো বাজার ভালো হয়। এটা তো চলতে থাকবে। পাশাপাশি দুদিকেই মাথায় রাখতে হবে, একই ভাষাভাষি আমরা তো, সেই কারণে ক্রস কালচারাল এই এক্সচেঞ্জটা হবেই। আমরা চাই বা না চাই, তবু হবে।

সাফটা চুক্তির মাধ্যমে সিনেমা রিলিজের ফলে সিনেমাগুলো অনেক পুরনো হয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছচ্ছে। এখন দুদেশে একইসঙ্গে রিলিজ করানোর ব্যাপারেও কথাবার্তা এগুচ্ছে। আপনার মতামত কি?

কমলেশ^র : একইসঙ্গে রিলিজ করার ব্যাপারে আমরা উদ্যোগী। আমরা সে জন্য চেষ্টাও করছি।

থিয়েটারে কি এখনো সক্রিয়? আপনার দল ‘চেতনা’য় কি সময় দিতে পারেন?

কমলেশ^র : হ্যাঁ, এখনো থিয়েটার নিয়ে সক্রিয়। নতুন নতুন নাটক মঞ্চে আসছে, শো হচ্ছে। নতুন মঞ্চে এসেছে ‘বিশ^াসঘাতক’।

লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের ফাঁকে কি প্রেসক্রিপশন লিখতে হয়?

কমলেশ^র : না সেরকম করতে হয় না। প্রফেশনালি না করলেও আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীর জন্য ডাক্তারি করতে হয়।

এত ভিড়ের মাঝেও কিছুক্ষণ সময় দেয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ…

কমলেশ^র : আপনাকেও ধন্যবাদ। শুভকামনা…

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj