স্বপ্ন পূরণের সংগ্রামী গল্প ‘ন ডরাই’

শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯

স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত বাংলাদেশের নির্মিত প্রথম সার্ফিং সিনেমা ‘ন ডরাই’। গতকাল ৮টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাষায় নির্মিত নারী সার্ফার নাসিমার জীবনের সত্যি ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। তার সঙ্গে আছেন শরিফুল রাজ। তাদের সঙ্গে কথা বলে লেখা সাজিয়েছেন শাকিল মাহমুদ

বাংলাদেশের প্রথম সার্ফিং সিনেমা ‘ন ডরাই’য়ে অভিনয় করেছেন। এমন একটি ঘটনার স্ক্রিপ্টে অভিনয় করার আগ্রহ কেন হলো?

সুনেরাহ : বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার নাসিমার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে সিনেমাটি নির্মিত। একটা প্রতিক্রিয়াশীল পরিবেশে একটা মেয়ে কতটা সংগ্রাম করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চেষ্টা করে। আমাদের দেশে একটা ছেলে যত সহজে নিজেদের ইচ্ছেগুলো পূরণ করার সুযোগ পায় সেখানে একটা মেয়ের ইচ্ছেগুলো পূরণ করা ততটাই কঠিন। শুধু আমাদের দেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশের মেয়েরাই প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। আমাদের দেশের প্রবল প্রতিক্রিয়াশীলতার কারণে সে প্রতিবন্ধকতা প্রকট। তো আমার কাছে মনে হয়েছে সব প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে একজন নারীর নিজের ইচ্ছে পূরণের যে প্রবল স্পৃহা দেখিয়েছে সে গল্পে, সে চরিত্রে অভিনয় করে দেশের, পৃথিবীর সব নারীর কাছে একটি বার্তা পৌঁছানোর কাজটা করা প্রয়োজন। সে কারণে এই গল্পে, এই চরিত্রে অভিনয় করা।

রাজ : প্রথমত একটা অ্যাডভেঞ্জার সিনেমা নির্মিত হচ্ছে, তাও একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। আর দ্বিতীয় বিষয়টা বলতে গেলে সার্ফিং নিয়ে এর আগে এ দেশে সিনেমা নির্মিত হয়নি। সে জায়গা থেকে একটি ঐতিহাসিক সিনেমা হচ্ছে ‘ন ডরাই’। সব মিলিয়ে অর্থাৎ গল্প, চরিত্র এবং অ্যাডভেঞ্চার এসব কিছুর জন্যই সিনেমাটিতে অভিনয় করার আগ্রহ হয়েছে।

সিনেমাটিতে অভিনয় করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়েছে?

সুনেরাহ : এই সিনেমাটি যেহেতু সার্ফিংয়ের ওপর নির্মিত সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়েছে সার্ফিংয়ের ওপরেই। শুটিং শুরুর মাসখানেক আগে আমি এবং রাজ দুজন কক্সবাজার চলে যাই। সেখানে গিয়ে সার্ফিং শিখতে হয়েছে আমাদের। যেহেতু সিনেমায় আমাদের দুজনকে আলাদা আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। আর ছিল ভাষা। সম্পূর্ণ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায়। যেহেতু আমরা ওই ভাষায় অভ্যস্ত নই তাই আমাদের বেশ গুরুত্ব দিয়ে ভাষাটা রপ্ত করতে হয়েছে।

রাজ : শুটিংয়ের বেশ কয়েক মাস আগেই যেহেতু সুনেরাহ ও আমি- দুজন সার্ফিং শেখার জন্য কক্সবাজার চলে যাই সেক্ষেত্রে সার্ফিং শেখার পাশাপাশি ওখানকার মানুষদের আচার-আচরণ সম্পর্কেও একটা ধারণা আমাদের তৈরি হয় যা পরবর্তীতে চরিত্রায়নে অনেকটা সাহায্য করেছে। আর ভাষার ক্ষেত্রে সার্ফিং শেখাটা যতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল ততটাই চ্যালেঞ্জিং ছিল চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা রপ্ত করা। আমাদের সঙ্গে হিন্দোল রায় ছিলেন, উনি আমাদের চট্টগ্রামের ভাষার গ্রুমিং করান।

সিনেমাটিতে কাজ করতে গিয়ে নতুন কোনো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন?

সুনেরাহ : নতুন অভিজ্ঞতা তো অবশ্যই অর্জন হয়েছে। তবে স্পেসিফিক করে বললে অভিনয়ের বাইরে স্বাভাবিক জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটেছে আমার। যেমন মেয়েরা নিজেদের ত্বক নিয়ে সব সময় কনসার্স থাকে, এই বুঝি রোদে পুড়ে গেল বা পায়ে কাদা লেগে গেল! তো এই বিষয়গুলো আমি কাটিয়ে উঠেছি এই সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে। এখন আমাকে যেকোনো ধরনের খাবার দিলে অকপটে খেতে পারি বা যেকোনো জায়গায় ঘুমানোর ব্যবস্থা করলে ঘুমাতে পারব।

রাজ : অভিজ্ঞতা বলতে সার্ফিং করার বিষয়টা তো অবশ্যই এক নতুন অভিজ্ঞতা তার ওপর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা শেখা। আর সেভাবে বললে পুরো সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতাটাই তো নতুন। প্রতিটি নতুন কাজ নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনে ভূমিকা রাখে। সেক্ষেত্রে ‘ন ডরাই’ সম্পূর্ণ সিনেমাটাই আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশের প্রথম সার্ফিং সিনেমা ‘ন ডরাই’। এর অভিনেতা হিসেবে কতটা আশাবাদী সিনেমা নিয়ে?

সুনেরাহ : আমাদের সমাজে ছেলেদের স্বপ্ন পূরণে সমাজ, পরিবার যতটা এগিয়ে থাকে একটি মেয়ের স্বপ্নকে মেরে ফেলতে ততটাই এগিয়ে থাকে। তেমন একটি জায়গা থেকে এই সিনেমা দর্শকদের সামনে এসেছে। আর এর মেকিং, এডিটিং আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন। আশা করছি দর্শকদের যেমন ভালো লাগবে তেমন সমাজের প্রত্যেকের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেবে। এই সিনেমা ইতোমধ্যে নির্মিত সিনেমাগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি।

রাজ : সিনেমার গল্পটা আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটা ঘটনা থেকে আলাদা কোনো গল্প নয়। সেক্ষেত্রে দর্শক সিনেমার সঙ্গে নিজেকে অথবা তার আশপাশের কোনো না কোনো ঘটনাকে সম্পৃক্ত হতে দেখবে। যার কারণে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় হলেও দর্শক সিনেমার গল্প সহজেই বুুঝতে পারবে। ‘ন ডরাই’য়ে অভিনয় করার কারণে নয়, একজন দর্শক হিসেবে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বাংলাদেশের প্রথম সার্ফিং সিনেমা, আশা করি দর্শকদেরও ভালো লাগবে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj