ভালো লাগলে হাততালি না লাগলে গালাগালি!

শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯

পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ওয়েব সিরিজে ফেলুদার ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীকে। ‘ফেলুদা’র চরিত্রে প্রথমবার অভিনয়, কেমন লাগছে অভিনেতার? কী-ই বা তার প্রতিক্রিয়া? ভারতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বললেন টোটা রায়চৌধুরী। মেলার পাঠকদের জন্য তারই চুম্বকাংশ

ফেলুদার চরিত্রে প্রথমবার, কেমন লাগছে?

সৃজিত যখন জানাল যে তুমি মনোনীত হয়েছ তখনো প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। মনে হচ্ছিল সন্ধ্যাবেলা গিয়ে হয়তো সৃজিত বলবে যে না না, আমি ভুল বলেছি। তোমায় নেয়া হয়নি!

নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারানোর পর কী অনুভূতি হয়েছিল?

হ্যাঁ, এরপরটাই আসল। এরপর বুঝলাম যে একটা বিশাল দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছে। আসলে এতদিন ধরে এত জনের নাম সামনে আসছিল, প্রত্যেকেই হয়তো আমার থেকে ভালো করতে পারতেন, কিন্তু তাও এর মধ্য থেকে আমাকে বেছে নেয়া হলো। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের প্রত্যাশাও বেড়ে গেল অনেকটা। ঠিক করি, একদম মন দিয়ে কাজটা করতে হবে যাতে তাদের ফ্যানরাও বলতে পারেন যে, ‘না, টোটা সত্যিই কাজটা ভালো করেছে।’

ফেলুদা মানেই তো নস্টালজিয়া, বাঙালির রক্তে মিশে যাওয়া একটা চরিত্র। কীভাবে গ্রুম করবেন নিজেকে?

দেখুন, ‘চোখের বালি’র সময় ঋতুদাকে যখন জিজ্ঞাসা করি যে কীভাবে তৈরি হব? উনি আমাকে প্রথমেই বলে দেন, ‘যেটা আমি বলব সেটাই করবি। নিজে থেকে কিচ্ছু তৈরি হতে হবে না।’ তাই এ ক্ষেত্রেও আমি সৃজিতের উপরেই সেই ভারটা দিয়ে দিয়েছি। ও কী চাইছে, ওর কী ভিশন…আমি সেটাকেই পূর্ণ করতে চাইব। ওর সঙ্গে বসে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে নেব, কীভাবে ও আমায় দেখতে চাইছে। আর সত্যি কথা বলতে কি, আমি সৃজিতের গুণমুগ্ধ ভক্ত। ওর প্রত্যেকটা ছবিই আমার দেখা। কিন্তু ওর সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। তাই সবার আগে যেটা দরকার তা হলো ওর সঙ্গে সিটিং।

‘ফেলুদা’ শুনলে সবার আগে কী মাথায় আসে?

‘ফেলুদা’ তো ইমোশন। সেই যখন থেকে ‘দেশ’ পত্রিকায় ফেলুদা প্রকাশিত হতো তখন থেকে ফেলুদার পাঠক আমি। বাড়িতে যখন দেশ পত্রিকা আসত তখন রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগে যেত। আর আমি সন্দীপ রায়ের ফেলুদাতেও কিন্তু কাজ করেছি, যদিও সেটা ফেলুদার চরিত্রে নয়। ‘ফেলুদা’র একটা ইমেজ সবার কাছে আগে থেকেই তৈরি হয়ে আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না সেই ইমেজটাই ধরে রাখতে। ওই জন্যই নিজেকে পুরো জলের মতো ছেড়ে দিয়েছি। সৃজিত যেভাবে চরিত্রটাকে নিয়ে যাবে সেভাবেই যাব।

এখনও পর্যন্ত যারা যারা ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাদের মধ্যে আপনার চোখে সেরা কে?

মূলত বড় পর্দায় তিনজন ফেলুদা হয়েছেন সৌমিত্রবাবু, বেণুদা (সব্যসাচী চক্রবর্তী) এবং আবীর এবং তিনজনই নিজের মতো করে অনবদ্য। সৌমিত্রবাবুর মধ্যে সেই বুদ্ধিদীপ্ত বাঙালিয়ানা, তী² দৃষ্টি, হাঁটাচলার মধ্যে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা…সব মিলিয়ে আলাদাই একটা ব্যাপার ছিল। বেণুদার মধ্যেও সেই টাফনেসটা দেখা গিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কে ফেলুদা হবে তা নিয়ে যে পোল হয়েছিল তাতে কেউ আপনাকে পছন্দ করেছেন, আবার কেউ করেননি। দর্শকদের কিছু বলবেন?

যারা আমার ওপর আস্থা রাখতে পেরেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কিছুটা অবাকও বটে। ভেবেছিলাম, আমি দর্শকদের মন থেকে বুঝি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু তারা যে আমাকে মনে রেখেছেন তার জন্যই বোধহয় আমার দায়িত্বটা আরো হাজারগুণ বেড়ে গেল। চেষ্টা করব নিজের সবটুকু দিয়ে ‘ফেলুদা ফেরত’-কে সাকসেসফুল করতে। এটাই বলব, আমায় একটা সুযোগ দেবেন। কাজটা ভালো লাগলে হাততালি দেবেন, না ভালো লাগলে মনের সুখে গালাগালি দেবেন না হয়।

:: মেলা ডেস্ক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj