ভোক্তা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি নয়, কমানো যায়

শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯

ফের বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বিতরণ কোম্পানিগুলো থেকে প্রস্তাব পেয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানি শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া গণশুনানি চার কর্মদিবস চলবে। শুনানির পর ৯০ দিনের মধ্যে সবার মতের ওপর ভিত্তি করে দাম বাড়ানোর বিষয়টি ঘোষণা দেবে বিইআরসি। শুনানিতে পিডিবির ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ দর বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিপরীতে কমিশনের মূল্যায়ন কমিটি ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ দর বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এতে পিডিবির প্রতি ইউনিটে বিদ্যুতের দাম ৯৩ পয়সা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে পিজিসিবি ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ সঞ্চালন মাশুল বৃদ্ধির যে আবেদন করেছে, সেখানে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধিকে যুক্তিযুক্ত মনে করছে কমিশনের মূল্যায়ন কমিটি। গত ১০ বছরে আটবার বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। এ খাতের সিস্টেম লস এবং দুর্নীতি রোধ করতে পারলেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না বরং কমানো যায়। কিন্তু নিয়ন্ত্রক কিংবা সেবাদানকারী সংস্থা-কোম্পানিগুলো তাতে আগ্রহী না হয়ে সব সময় দাম বৃদ্ধির পথে হাঁটতেই পছন্দ করে। এত কম সময়ে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নাগরিকদের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ যোগ করবে- এটাই স্বাভাবিক। জ্বালানি খাতসহ অন্যান্য খাত উন্নয়নে দুর্নীতি বড় বাধা। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯১৬-২০) সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সরকার দুর্নীতি দমন অভিযানে আছে। ভোক্তারা এ অভিযানে সরকারের সঙ্গে আছে। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, ঘুষ লেনদেন আর লুটপাটের কারণে বিদ্যুৎ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আদর্শিকভাবে এ খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এ ছাড়া বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় ভোক্তারা বছরে ৭ হাজার ৮৪৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। আমরা লক্ষ করছি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের মধ্যে এক ধরনের লাভ করার মনোবৃত্তি প্রবল হয়ে উঠেছে। যে কোনো ছুতোয় খাতগুলোর দাম বৃদ্ধির জন্য সদা ব্যস্ত থাকে। কথায় কথায় ভর্তুকি কমানোর উছিলা দেয়া হয়। বিশ্ববাজারে অনেক দিন থেকেই জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী। দেশীয় বাজারেও ফার্নেস অয়েলের দাম কমানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমে গেছে। দেশে গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের দাম কমার কথা। কিন্তু দাম না কমিয়ে উল্টো বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর উদ্যোগ কেন নেয়া হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। বিদ্যুতের দাম বাড়লে সব রকম দ্রব্যমূল্য ও সেবামূল্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। আর শেষ পর্যন্ত তা বহন করতে হয় ভোক্তা সাধারণকে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের সামর্থ্য তথা জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের দাম কীভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় তা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যুতের মতো জরুরি প্রয়োজনীয় সেবা খাতের ব্যাপারে জনবান্ধব নীতি নিয়ে এগোবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj