হলি আর্টিজান হামলা : রায় দ্রুত কার্যকর হোক

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৯

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলার রায়ে ৮ আসামির মধ্যে ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এক আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ রায় কার্যকর হলে ভবিষ্যতে কেউ এ রকম নৃশংস কাজ করার সাহস পাবে না। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে ২০ বিদেশি নাগরিকসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনকে জিম্মি করে রাখে এবং রাতভর হত্যাযজ্ঞ চালায়। পরদিন সকালে রেস্তোরাঁয় জিম্মিদের উদ্ধারে কমান্ডো অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। অভিযান শেষে যৌথবাহিনী বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জনকে জীবিত এবং মোট ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। অভিযানে ৬ জঙ্গিও নিহত হয়। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সেসব দেশি-বিদেশি মানুষকে, যারা জঙ্গি হামলায় চিরতরে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে গত বছরের ৮ আগস্ট ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এ তারিখ নির্ধারণ করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা নিষ্ঠুর, নারকীয় ও দানবীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। তথাকথিত জিহাদের নামে নৃশংসতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটায় তারা। জঙ্গিদের লক্ষ্য ছিল, এ হামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব জানান দেয়া। জিহাদ কায়েম করে জননিরাপত্তা বিঘ্ন করার চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, কলঙ্কজনক এ হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্রহননের চেষ্টা করেছিল। যারা এ ধরনের হামলা চালিয়ে বর্বরতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে তাদের প্রতি অনুকম্পা জানানোর সুযোগ নেই। বিচারকের বক্তব্যে আমরাও আশ্বস্ত হতে চাই। দ্রুত ঘাতকদের শাস্তি দেখতে চাই। গুলশান হামলার পর পর শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো কয়েকটি জঙ্গি হামলা সংঘটিত হয়েছে। অনেক জঙ্গি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অভিযানে মারাও গেছে। হলি আর্টিজানে হামলায় জড়িত ছিল এ রকম ৮ জন বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে। এর বাইরে ওই ঘটনার যারা পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে এ রকম অনেককেও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দাবি। আমরা আশা করব, হলি আর্টিজানসহ সব জঙ্গি হামলার রায় যাতে দ্রুত নিষ্পন্ন হয় তার জন্য সচেষ্ট থাকবেন সংশ্লিষ্টরা। হলি আর্টিজানের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি যাতে এ দেশে আর কোনোভাবেই ঘটতে না পারে তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে আমাদের।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj