বায়ুদূষণ : প্রাণঘাতী এই বিপদ ঠেকাতে হবে

বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শিল্পবর্জ্যরে কারণেও রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে বায়ুদূষণ বাড়ছে ক্রমাগত। শিল্পাঞ্চলের আশপাশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী মারাত্মক সব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দুপুর ১টায় বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল সর্বোচ্চ ২৬১। আর ওই সময় বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫-এর পরিমাণ ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২১১ মাইক্রোগ্রাম। রাত ১১টা নাগাদ এটি কমে দাঁড়ায় ১৮৭-তে। এ সময় বায়ুদূষণকবলিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ৫ম। এ অবস্থায় গবেষণা সংস্থার পর্যবেক্ষণটিকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত। বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ে ওইদিনই পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটিতে বায়ুদূষণের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তার মধ্যে তিনটি কারণ প্রধান। যাতে ঢাকাসহ সারাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে। সেগুলো হলো ইটভাটা, মোটরযানের কালো ধোঁয়া ও যথেচ্ছ নির্মাণকাজ। মন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ সঠিক। জানা যায়, ২০১৩ সালে দেশে মোট ইটভাটার সংখ্যা ছিল ৪৯৮৫টি। ২০১৮-তে বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৯০০টিতে। এর মধ্যে ঢাকার আশপাশেই রয়েছে ২ হাজার ৮৭টি। প্রতি মুহূর্তে এসব ইটভাটার ধোঁয়ায় বিষাক্ত হয়ে উঠছে ঢাকার বাতাস। শুষ্ক মৌসুমে শতকরা ৫৮ শতাংশ বায়ুদূষণের পেছনে দায়ী এসব ইটভাটা। গতকাল হাইকোর্ট ঢাকার আশপাশের সব ইটভাটা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা আমলে নিতে হবে। অবিলম্বে ইটভাটা বন্ধ করতে হবে। গত ৪০ বছরে ঢাকা শহরে সুউচ্চ ভবন ও অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ৭৫ শতাংশ চাষযোগ্য জমি হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া নন-কমপ্লায়েন্স শিল্প ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে শহরের বাতাস এবং ভূ-পৃষ্ঠের পানি দূষিত হচ্ছে। বায়ুদূষণের উপাদানগুলো মূলত ধূলিকণা, সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রো কার্বন, কার্বন মনোক্সাইড, সিসা ও অ্যামোনিয়া। অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা স্থাপনে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ ক্রমাগত বাড়ছে। ক্ষতিকর উপাদানগুলোর ব্যাপকহারে নিঃসরণ ঘটছে। যাদের বেশিরভাগই দরিদ্র জনগোষ্ঠী, তারা সিসা দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে বিশেষ করে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে (আইকিউ) ও স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে এবং গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত ও মৃত শিশু প্রসবের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। পরিবেশদূষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ ব্যাপারটি সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা আছে। কিন্তু নেই সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ এবং অভিজ্ঞতা যা কাজে লাগিয়ে বাস্তবায়ন করা যায় বসবাসযোগ্য পরিবেশ। জাতীয়ভাবে পরিবেশ রক্ষার জন্য এবং পানি সুরক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত, সচেতন হওয়া উচিত। সর্বোপরি, পরিবেশদূষণ প্রতিরোধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj