এসএ গেমসে বাংলাদেশের প্রত্যাশা

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৯

সাউথ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া প্রোতিযোগিতা ১৩তম এসএ গেমসের আসর অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১-১০ ডিসেম্বর নেপালের কাঠমুন্ডু ও পোখরা শহরে। এবার আসন্ন সাউথ এশিয়া গেমসের আসরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা একটু বেশি। প্রতিযোগিতায় ২৭টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে ২৫টিতে অংশ নেবে বাংলাদেশ। তাই নেপালে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ইতোমধ্যে স্বর্ণ জিততে বিওএ ছক কষতে শুরু করেছে।

এর আগে ২০১০ সালে ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশের জন্য ছিল স্মরণীয়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১১তম আসরে ১৮টি স্বর্ণ, ২৩ রুপা ও ৫৬টি ব্রোঞ্জ জেতে বাংলাদেশ। তবে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৪ স্বর্ণ জয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। এবার এসএ গেমসে ২৫ ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড়রা ভালো খেলতে ও স্বর্ণ জিততে মরিয়া হয়ে আছে। এ ছাড়া ২৭ ডিসিপ্লিনের মধ্যে ৯টিতে অংশ নিবে না ভারত। আরচারিসহ এই ৯ ডিসিপ্লিনে স্বর্ণ জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বাংলাদেশের। সম্প্রতি রোমান সানা সরাসরি অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করেছেন। তাকে নিয়ে এসএ গেমসে স্বর্ণ প্রত্যাশা করাটা স্বাভাবিক। এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও বলেছেন এসএ গেমসে ক্রিকেটে স্বর্ণ জিতেই ফিরতে চায়।

তিনি আরো বলেন, বিওএ সব সময়ই খোঁজ নিচ্ছে। গেমসে ক্রিকেট দল খেলবে, এ নিয়ে আমরা মুখিয়ে আছি। আমাদের ছেলেরা ভালো করার চেষ্টা করবে। আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যাতে শেষ হাসিটা যেন হাসতে পারি। কেবল ক্রিকেটই নয়, সব খেলাতেই যেন ভালো করা যায় কামনাই থাকবে আমাদের।

ফুটবলে জামাল ভঁ‚ইয়ারা স্বর্ণ জিততে পারবে এমনটাও প্রত্যাশা বাংলাদেশের।

আসন্ন ১৩তম এসএ গেমস সামনে রেখে ৩০ কোটি টাকার একটি বাজেট ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)। এই বাজেটের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল খেলোয়াড়দের ট্রেনিং, বিদেশি কোচদের বেতন ও বিশাল কন্টিজেন্টের আশা-যাওয়ার খরচ। গেমস শুরু হওয়ার কয়েক দিন বাকি থাকলেও পুরো অর্থ হাতে পায়নি বিওএ। ডিসেম্বর নেপালের অনুষ্ঠিতব্য এসএ গেমস বাংলাদেশ অংশ নেবে আরচারি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, বক্সিং, সাইক্লিং, ফেন্সিং, ফুটবল, গলফ, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, জুডো, কাবাডি, কারাতে, খো খো, শ্যুটিং, স্কোয়াশ, সাঁতার, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ানদো, টেনিস, ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু-তে। এই ২৫ ডিসিপ্লিনে থাকছেন ২৬৩ জন পুরুষ ও ১৯৯ জন নারী অ্যাথলেট। আর কোচ, কর্মকর্তাসহ সব মিলিয়ে ৬২১ জনের বহর যাচ্ছে নেপালে। এই দলের পতাকা বহনের জন্য শেষ পর্যন্ত গত আসরের দুটি সোনা জয়ী মাহফুজা খাতুন শিলাকেই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)। আবাহওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাঁতার ও সাইক্লিং দল এরই মধ্যে নেপালে অবস্থান করছে। আগামী ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের পর্দা উঠলে ভলিবল দিয়ে মাঠের খেলা শুরু হবে ২৭ নভেম্বর থেকে। ভলিবল দলও নেপালে পৌঁছে গেছে। থাইল্যান্ড থেকে বক্সিং দল এবং ভারত থেকে কাবাডি দল নেপাল যাবে। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় বহরটি নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে আগামী ২৯ নভেম্বর।

:: কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj