চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী : দক্ষভাবে ব্যবসায়ীদের তদারক করতে হবে

সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৯

গতকালের প্রায় সব জাতীয় দৈনিকের খবরে দেখা যায়, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় পাঁচ থেকে সাত টাকা পর্যন্ত। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ধানের এ ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ার কথা নয়। অথচ বাড়ছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে এমনিতেই সাধারণ মানুষের নাকানি-চুবানি খাওয়ার অবস্থা। এর মধ্যে চালের বাজার অস্থির হলে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে খুচরা, পাইকারি ও মিলারদের একে-অপরকে দোষারোপ করার একটা প্রবণতা আমরা লক্ষ করি। চালের বেলায়ও তা দেখছি। মিল মালিকরা গণমাধ্যমকে বলছেন, চালের সরবরাহ কমে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে কিছু সুবিধাবাদী চক্র। যার কারণে ধীরগতিতে চালের দাম বাড়ার পরিবর্তে বেড়েছে দ্রুতগতিতে। ইতোমধ্যে আমন মৌসুম শুরু হলেও সহসা চিকন চালের দাম কমবে না বলেও জানিয়েছেন তারা। এক সপ্তাহ আগে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাল গত দুদিন ধরে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজির বিআর-২৮ চালের দাম কেজিতে চার টাকা বেড়েছে। শুধু তাই নয়, গত এক মাসে বাজারে ডাল, আটা, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়েই চলছে। এমনকি সরকারের অনুরোধও কানে তুলছেন না ব্যবসায়ীরা। পণ্য যথেষ্ট মজুত থাকলেও সরবরাহ নেই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা অজুহাত তারা দাঁড় করাচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েন নি¤œবিত্তের মানুষ এবং যাদের আয় সুনির্দিষ্ট। যাদের নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা নেই এবং যারা নির্দিষ্ট বেতন পান তারাই বেশি নাজুক অবস্থায় পড়েন। জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর চাল, গম ও ভুট্টার উৎপাদন তিন কোটি ৯০ লাখ টনেরও বেশি। এ পরিমাণ ঘাটতিতে বাজারে তেমন প্রভাব পড়ার কথা নয়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ভবনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। আমাদের দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চাল; বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষকে প্রচুর পরিমাণে ভাত খেতে হয় শুধু শর্করার চাহিদা পূরণের জন্য নয়, তাদের আমিষেরও একটা বড় অংশ আসে ভাত থেকে। তাই চালের দাম যেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়সাধ্যের সীমা অতিক্রম না করে, সরকারকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়। কিন্তু সরকার দক্ষভাবে ব্যবসায়ীদের তদারক করতে পারছে কিনা সে প্রশ্ন সামনে আসছে। সরকারকে চালের বাজার স্বাভাবিক রাখায় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। ভাঙতে হবে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj