সড়ক পথে নেপাল ভ্রমণ

রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৯

মাহফুজুর রহমান মুকুল

আমাদের দেশ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক বাইরোডে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যান। অল্প কিছু পর্যটক ইদানীং বাই রোডে ভূটানেও যাচ্ছেন। তবে, কিছুটা জটিলতার কারণে, ইচ্ছে থাকা সত্ত্বে বিভিন্ন জটিলতা মনে করে অনেকেই বাইরোডে নেপাল ভ্রমণের প্ল্যান করতে ভয় পান। বাই রোডে নেপাল ভ্রমণের পুরো গল্পটিকে আমরা দুইভাগে ভাগ করেছি। প্রথম পর্বে ঢাকা থেকে বাই রোডে নেপাল ভ্রমণের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি প্রক্রিয়াটি সহজে আপনাদের হাতে কলমে দেখানোর চেষ্টা করব। বাইরোডে নেপাল ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই যে ভুল ধারণাটি কাজ করে সেটি হচ্ছে, ভূটান এবং নেপালে যাওয়ার ভিসা প্রক্রিয়া এক মনে করেন। যারা এমনটা ভাবেন তাদের এই ধারণাটির পেছনে যুক্তি রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপাল এবং ভূটান উভয় দেশেই পোর্ট এন্ট্রি ভিসার ব্যবস্থা রয়েছে। বাইরোডে যেতে হলে দুই দেশেই ভারতের উপর দিয়েই যেতে হয়। দুই দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রেই ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয়। তাই, দুই দেশে প্রবেশের ব্যাপারেও একই নিয়ম হতে পারত। কিন্তু এখানে বাঁধ সেধেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন। দুই দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের নিয়ম দুই রকম। নেপাল ভ্রমণ করতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে ঢাকার নেপাল অ্যাম্বেসি থেকে নেপালের ভিসা নিতে হবে। নেপালের ভিসা ছাড়া ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার আবেদন করলে তা ভারতীয় হাই কমিশন থেকে প্রত্যাখ্যাত হবে।

কিভাবে নিবেন নেপাল ভিসা : নেপালের ভিসা নিতে হলে প্রথমেই নফ.হবঢ়ধষ বসনধংংু.মড়া.হঢ়/ারংধ লিংক হতে নেপালের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফরমটি ডাউনলোড করে হাতে লিখে পূরণ করুন। এরপর যে কাগজগুলো লাগবে সেগুলো হচ্ছে : আপনার এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আপনার পাসপোর্টের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি, আপনার পেশাগত প্রমাণ এবং ঢাকা-কাঠমান্ডু ঢাকা রিটার্ন এয়ারটিকেটের কপি। পেশাগত প্রমানের ক্ষেত্রে আপনি চাকরিজীবি হলে অফিসের এনওসি, শিক্ষার্থী হলে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রাপ্ত সার্টফিকেটের নোটারি কপি এবং ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের নোটারি কপি লাগবে। সবগুলো কাগজের মধ্যে যেটা নিয়ে অনেকেই একটু সমস্যায় পড়েন, সেটা হলো রিটার্ন এয়ার টিকেটের কপি নিয়ে। এক্ষেত্রে আপনি যে কোনো ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে পারেন। অথবা নিজে নিজেও বাংলাদেশ বিমানের ওয়েবসাইট থেকে ফ্লাইট বুকিং করে নিতে পারেন। নিজে নিজে ফ্লাইট বুকিং করতে সমস্যা হলে নিচের লিংকে গিয়ে শিখে নিতে পারেন: যঃঃঢ়ং://ুড়ঁঃঁ.নব/ ধড়লখংঈঃ০খঅগ নেপাল অ্যাম্বেসি ঢাকার বারিধারায় আমেরিকান অ্যাম্বেসির পাশে অবস্থিত। এখানে ভিসা আবেদনপত্র জমা নেয়া হয় প্রতি রবিবার হতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। আপনার কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে আবেদনের পরবর্তী কর্মদিবসেই ভিসা ইস্যু হয়ে যাবে। ভিসা ডেলিভারি নেয়ার সময় প্রতি কর্মদিবসে দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।

বাই রোডে ভ্রমণ করলে এয়ারটিকেটের বুকিং কেন : আমার ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও প্রকাশ করার পরে অগনিত ফলোয়ার আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, বাই রোডে নেপাল যাব। তাহলে, এয়ারটিকেটের বুকিং কপি কেন লাগবে? একটা বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, অনেকেই বাসের টিকেট দিয়ে আবেদনের কথা বলে থাকে। কিন্তু নেপাল অ্যাম্বেসির ওয়েবসাইটে স্পষ্ট করে বলা আছে, আপনার ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা রিটার্ন টিকেট থাকতে হবে। যেহেতু, ঢাকা থেকে নেপালের কোন শহর পর্যন্তই সরাসরি কোন বাস সার্ভিস চালু নেই, সেহেতু ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাসের টিকেট দেখানোর কোন সুযোগ থাকছে না। বলে রাখা ভালো, প্রথমবার নেপাল ভ্রমণ করলে বিনা পয়সায় আপনি ভিসা পেয়ে যাবেন।

ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার জন্য অবশ্য করণীয় : নেপালের ভিসা হাতে পাওয়ার পর এবার ভারতের ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করুন। একটা বিষয় খেয়াল রাখুন, ভারতীয় হাই কমিশন মাত্র ১৫ দিনের জন্য ট্রানজিট ভিসা দেয়। সুতরাং, আপনার ভ্রমণ শুরুর তারিখ থেকে মাত্র ১০/১২ দিন আগে ভিসার আবেদন করুন। মনে করুন আপনি ডিসেম্বরের ১৫ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত ভ্রমণ করবেন বলে স্থির করেছেন। সেক্ষেত্রে ৫ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে কাগজ জমা দিবেন। এবার আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজার করুন : রহফরধহারংধ-নধহমষধ ফবংয.হরপ.রহ/ারংধ এরপর অনলাইন ভিসা অ্যাপ্লিকেশন অপশনে ক্লিক করুন। অনলাইন ফর্মটির প্রথম পাতায় আপনার নিকটস্থ ইন্ডিয়ান মিশন সিলেক্ট করুন। যথাযথভাবে আপনার দেশের নাম, জন্মতারিখ, ইমেইল অ্যাড্রেস, জাতীয়তা এবং আপনার ভ্রমণের তারিখ উল্লেখ করুন। ভিসা টাইপ এ অনেকগুলো অপশন দেখাবে। সেখান থেকে আপনি ট্রানজিট ভিসা অপশন সিলেক্ট করুন। এরপর পারপাজে একটিই মাত্র অপশন দেখাবে। সেটিতে ক্লিক করে পরবর্তী পেজে চলে যান। অন্য অপশনগুলো ভারতের অন্য ভিসার মতই। তবে, ভিসা ডিটেইলসের পেজে নম্বর অব এন্ট্রি অপশনে ডাবল অপশনটি সিলেক্ট করবেন।

পোর্ট অব এন্ট্রি এবং এক্সিট দুটোতেই চ্যাংড়াবান্ধা অবলিক রানীগঞ্জ দিবেন।

নেপাল ভ্রমণের জন্য ভারতের ট্রানজিট ভিসা করার ক্ষেত্রে যেসব বাড়তি পেপারস লাগবে সেগুলো হল : ঢাকা টু বুড়িমারি রিটার্ন বাস টিকেট, নেপাল ভিসার ফটোকপি এবং নেপালের যে কোনো হোটেলের বুকিং কপি। আপনারা অবশ্যই জানেন, ভারতের যে কোনো ভিসা করতেই কমনভাবে প্রয়োজন পাসপোর্টের কপি, এনআইডি কপি, যে কোনো ইউটিলিটি বিলের কপি, ২ বাই ২ ইঞ্চি সদ্য তোলা ছবি, অফিসের এনওসি অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এবং ৩ মাসের ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট অথবা যে কোনো ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল কার্ডের কপি অথবা পাসপোর্টে এনডোর্স করা যে কোনো ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ডের কপি।

ভারতের মাল্টিপল টুরিস্ট ভিসা থাকলে করণীয় কি : আমার প্রকাশিত ভিডিওতে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, মাল্টিপল এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসা থাকলে তা ব্যবহার করে ভারত থেকে নেপাল যাওয়া যাবে কিনা। তাদের জন্য পরিস্কার উত্তর হচ্ছে, যাওয়া যাবে না। ভারত-নেপাল সীমান্তে অনেক দালাল টাকার বিনিময়ে ট্যুরিস্ট ভিসাধারীদের নেপালের ইমিগ্রেশন করে দেয়। কিন্তু আমার পরামর্শ থাকবে, এভাবে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারত থেকে নেপাল যাবেন না। কারণ এর শাস্তিতে পরবর্তীতে ভারতীয় হাইকমিশন ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত করতে পারে। তাই, পাসপোর্টে ভারতের ট্যুরিস্ট কিংবা অন্য যে কোনো ভিসাই থাকুক না কেন, নেপাল যাওয়ার জন্য অবশ্যই ট্রানজিট ভিসা করে নিবেন।

একটা বিষয় খেয়াল করুন, যারা জার্নি করতে পছন্দ করেন, নতুন নতুন জায়গা উদ্ভাবন করতে চান এবং ভ্রমণের উচ্ছাসে আরাম আয়েশ বিসর্জন দিতে রাজি থাকেন, তারাই শুধুমাত্র বাই রোডে নেপাল ভ্রমণ করার জন্য মনস্থির করুন।

বাইরোডে নেপাল ভ্রমণ করতে হলে অবশ্যই কমপক্ষে ৫-৬ দিনের জন্য প্ল্যান করতে হবে। আপনারা চাইলে বাইরোডে নেপাল ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে নির্মিত আমার ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন: যঃঃঢ়ং://ুড়ঁ ঃঁ.নব/ঞশবয১ডডঔ৪ণং

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj