কর্মক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করুন রাগ

রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৯

রাগ যদি ভালো কিছুর জন্য হয় তবে সেটি দিনশেষে ভালো। কিন্তু রাগের কারণে যদি কারো সঙ্গে মনোমালিন্য হয়, কাজে ক্ষতি হয়, সর্বোপরি নিজের ক্ষতি হয় তবে তা অবশ্যই খারাপ। যখন আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকবেন তখন অনেক বিষয়ই থাকবে যা সহজে মানা সম্ভব হবে না।গণনা করুন : হুট করে রাগ উঠে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ উপায় ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গণনা শুরু করা। মেজাজ যদি বেশি খারাপ থাকে তবে ১০০ পর্যন্তও গুণতে পারেন। যতবার গুণতে থাকবেন ততবার আপনার হার্ট রেট ধীর হতে থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে কমে যেতে থাকবে রাগ।

দীর্ঘশ্বাস নিন : রেগে গেলে ঘন ঘন শ্বাস পড়তে থাকে। সেই সাথে রাগ আরো বাড়তে থাকে। তাই রাগ কমাতে শ্বাস নিন ধীরে ধীরে। নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে বাতাস বের করুন সময় নিয়ে। কয়েকবার এমন করলে রাগের মাত্রা কমে আসতে থাকবে।

হাঁটাহাঁটি করুন : ব্যায়াম কিন্তু নার্ভকে শান্ত রেখে রাগ কমাতে সাহায্য করে। হাঁটাহাঁটি করা, বাইক চালানো, গলফ বা টেনিস খেলা এগুলো রাগ কমাতে বেশ সহায়ক। শরীর নাড়িয়ে দেহমনকে শান্ত রাখতে ব্যায়াম বেশ উপকারি। চাইলে মেডিটেশনও করতে পারেন।

বুলি আওড়ানো : রাগ উঠলে কোনো জায়গায় মন নিবদ্ধ করা জরুরি। সেক্ষেত্রে কোন একটি কথা বা বুলি বারবার আওড়াতে পারেন। ‘রিল্যাক্স’, ‘স্বাভাবিক হও’, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ এই কথাগুলো রাগের সময় বারবার আওড়ানো যায়।

স্ট্রেচ : শরীর এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইয়োগার মতো করে কয়েকবার ঘাড় নাড়ানো যায়। এতে আলাদা করে কোনো যন্ত্রপাতি লাগবে না। ক্লান্তি কমে যায় এতে।

মানসিক শান্তি : ধরুন কোনো কারণে খুব বেশি রাগ উঠলী আপনার। তখন চেষ্টা করুন সেই পরিবেশ থেকে একটু দূরে আসতে। সম্ভব হলে কোনো একটি নিরিবিলি রুমে গিয়ে বসুন। চোখ বন্ধ করে নিজেকে একটি সুনসান জায়গায় ভাবুন। সে অবস্থাতেই কিছু দৃশ্য কল্পনা করুন। পানির রঙ কী? পাহাড়ের উচ্চতা কত হয়? পাখিরা কীভাবে ডাকে? বলা হয়, এই দৃশ্যগুলো হচ্ছে মনকে শান্ত রাখার দৃশ্য। তাই রাগ উঠলে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখতে পারেন কিন্তু!

গান শুনুন : রাগের সময় সবচেয়ে বেশি করতে হয় প্রিয় কাজ। গান শোনা অনেকের কাছে প্রিয় তো বটেই রাগের সময়েও গান চিন্তা কমায়। আপনার অনুভুতির সঙ্গে মিলে যখন গান বাজতে থাকবে তখন বুঝতে হবে আপনার রাগ কমার ওষুধ কিছুটা হলেও লুকিয়ে আছে গান শোনার মাঝে।

কথা না বলা : রেগে গেলে মানুষ সবচেয়ে বেশি হিতাহিত জ্ঞান হারায়। আর তখনই অন্যজনের উদ্দেশে বলা হয়ে যেতে পারে খারাপ কোনো কথা। আর কথা কিন্তু একবার বলে ফেললে তা কখনোই আর ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব না। তাই রাগ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য যতটা সম্ভব মুখ বুজে থাকতে হবে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj