প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা : সাঙ্গুর সিসি ব্লুক ঘেঁষে বালু উত্তোলনের পাঁয়তারা

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

এম. নাজিম মাহমুদ, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে : সাতকানিয়ায় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে সাঙ্গু নদী হতে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের পাঁয়তারা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বাজালিয়া ভোর বাজার এলাকায় সাঙ্গু নদীর প্রবল ভাঙনপ্রবণ স্পটে বালু উত্তোলনের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার মেশিন বসালে এলাকাবাসীর তীব্র বাধার সম্মুখীন হন ওই যুবলীগ নেতা ও তার সিন্ডিকেট।

এলাকাবাসীর বাধার মুখে যুবলীগ নেতা ও তার সিন্ডিকেটের লোকজন পিছু হটে আপাতত বালু উত্তোলন বন্ধ রাখলেও নদী থেকে ড্রেজার মেশিন এখনো সরানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকার ভাঙন পীড়িতরা। এ অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন দাখিল করেন।

জানা যায়, দোহাজারী হতে কক্সবাজার হয়ে গুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশন এন্ড কোং লি. এর বালু সরবরাহকারী হিসেবে কাজ নেন বান্দরবান জেলা যুবলীগ নেতা আহম্মদ হোসেন। আহম্মদ হোসেন বান্দরবান জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। গত এক মাস আগে ব্যর্থ নেতা হিসেবে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। বালু সরবরাহের কাজ পাওয়ার পর থেকে এ যুবলীগ নেতা বাজালিয়া ভোর বাজার এলাকায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত ভাঙন প্রতিরোধ বাঁধের গা ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে সাঙ্গু নদী হতে বালু উত্তোলনের পাঁয়তারা শুরু করেছেন। অবশেষে গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার সময় বাজালিয়ার ওই স্পটে ভাঙন প্রতিরোধ বাধ ঘেঁষে নদীর তলদেশ হতে বালু উত্তোলনে ড্রেজার মেশিন বসানো হলে ভাঙন পীড়িত এলাকাবাসী তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন বাজালিয়া এলাকা সাঙ্গু নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে শত শত বসতঘর, ভিটে, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও ফসলি জমিসহ বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাজালিয়া এলাকায় এমন পরিবারও রয়েছে যারা নদী ভাঙনে ভিটে বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা গাছ তলায় খোলা আকাশের নিচে যাযাবরের ন্যায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নদী ভাঙন থেকে এ এলাকার মানুষকে রক্ষা করার জন্য বর্তমান সরকার শত কোটি টাকা ব্যয় করে সিসি ব্লুকের প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে শঙ্কামুক্ত করেছে। যদি এ ভাঙন প্রতিরোধ বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে নদী গভীর হয়ে বাধ ধসে পড়বে।

বান্দরবান জেলা প্রাক্তন সিভিল সার্জন ও এলাকার নদী ভাঙন পীড়িত বাসিন্দা ডা. মংতেঝ বলেন, বিগত দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে এ এলাকা সাঙ্গু নদীর প্রবল ভাঙনের কবলে পড়ে বহু বাড়িঘর বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় শত কোটি টাকার এ ভাঙন প্রতিরোধ বাঁধ পেয়েছি। সিসি ব্লুকের গা ঘেঁষে নদীর তলদেশ হতে বালু উত্তোলন করলে সরকারের শত কোটি টাকার ভাঙন প্রতিরোধ বাঁধ অচিরেই ধসে পড়বে।

যুবলীগ নেতা আহম্মদ হোসেন সাঙ্গু থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, রেললাইন নির্মাণের ঠিকারদারি প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশনের বালু সরবরাহের কাজ আমি পেয়েছি। যার কারণে সাঙ্গু নদী হতে বালু উত্তোলন করার জন্য ড্রেজার মেশিন বসিয়েছি। তা ছাড়া আমাদের কাছে নদী ড্রেজিংয়ের অর্ডার আছে। নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ভরাট নদী খননের কিছু সরকারি প্রক্রিয়া রয়েছে তা করেছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা বলেন, ভাঙন প্রতিরোধ বাঁধের ব্লুকের নিচ থেকে বালু উঠানো হলে ব্লুক ধসে পড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি খুব কষ্ট করে আমার নির্বাচনী এলাকায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ বাঁধ দিয়েছি। এসব বালু খেকো বদমায়েশদের জন্য সব শেষ হতে বসেছে। আমি এলাকাবাসীকে বলে দিয়েছি আমার নাম বললে ওই সব নেতাদের গালে তাপ্পড় লাগিয়ে দিতে। সাঙ্গু নদী থেকে অবৈধভাবে যারা বালু উত্তোলন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোবাইলে বারবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj