পাল্টে গেছে গুরুদাসপুরের দৃশ্যপট : যেখানেই অনিয়ম সেখানেই অভিযান

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : তিনি আসলেন, দেখলেন এবং বদলে দিলেন। আসলে নিজে ভালো থাকলে যে সব কিছুতেই ভালো করা যায়, তার প্রমাণ তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন একের পর এক। ঘটনাগুলো অবিশ^াস্য হলেও এটাই ব্যস্তবতা। তার কর্মজজ্ঞই পাল্টে দিচ্ছে গুরুদাসপুর উপজেলার দৃশ্যপট।

তার মানবপ্রেম, সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা, আদর্শ সর্বোপরি সাহসিকতা আর ভালোবাসা দিয়েই ইতোমধ্যেই জয় করে নিয়েছেন এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মন। বলছি নিজ কর্মগুণে আলোচিত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেনের কথা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যোগদানের ৫ মাসের মধ্যেই নজর কেড়েছেন সর্বসাধারণের। অফিসের কিছু কর্মকর্তা তার ওপর সাময়িক নাখোশ হলেও এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ কিন্তু দারুণ খুশি। বিভিন্ন মহল থেকে তাকে সাধুবাদও জানানো হচ্ছে। তার কর্মজজ্ঞই পাল্টে দিচ্ছে গুরুদাসপুর উপজেলার দৃশ্যপট।

বাংলাদেশে এই প্রথম গ্রামের অবহেলিত দুস্থ নারীদের বিনামূল্যে সেবাদানের লক্ষ্যে নারীদের জন্য অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। যাতে করে এসব অবহেলিত নারীরা ইউএনওর কাছে তাদের যে কোনো অভিযোগ দিতে পারেন। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কথা বিবেচনা করেই তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তা ছাড়া উপজেলা প্রশাসনে আসা নারী ও শিশুদের জন্য বেবি ফিডিং সেন্টার, সর্বসাধারণের জন্য হেল্পডেস্ক স্থাপন করেছেন তিনি।

নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ইউএনও তমাল হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫০টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে আনতেও সক্ষম হয়েছেন। স্মার্টফোনে আসক্ত ৩ শতাধিক তরুণকে খেলার মাঠমুখী করেছেন। শুধু তাই নয়, খেলোয়াড় এবং কোচদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পুরস্কারেও ভূষিত করে তাদের উৎসাহিত করেছেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয় ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু ও ’৭১ উপস্থিত বক্তৃতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, কুসংস্কার, গুজব বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্লাসসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে সবার নজর কেড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে নজরদারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও হতদরিদ্রদের প্রতি সুদৃষ্টি রেখে কাজ করছেন তিনি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অপকর্ম ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। এতে কতিপয় ভূমিদস্যু বা দালালচক্র নাখোশ হলেও এলাকার বৃহৎ জনগোষ্ঠী অনেক খুশি।

উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ইউএনও তমাল হোসেনের কারণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি অনেকাংশে কমে গেছে। যেখানেই সমস্যা, সেখানেই ছুটে যান তিনি। বিশেষ করে বাল্যবিয়ের আয়োজকদের কাছে ইউএনও তমাল হোসেন যেন এক আতঙ্কিত নাম। নিজ কর্মগুণে তিনি এখন উপজেলার সবার প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন জানান, উপজেলার প্রশানিক কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যাতে এলাকার মানুষ আমার কাছে নির্ভয়ে মনের কথাগুলো বলতে পারেন। সর্বপ্রকার কুসংস্কার এবং গুজব প্রতিরোধ করে দেশকে নিয়ে যেতে চাই এক অনন্য উচ্চতায়।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj