মাঝ সমুদ্রে শুটিং করাটা ছিল যুদ্ধের মতো

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

স¤প্রতি মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় ‘হাওয়া’ নামক চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ করে সেন্টমার্টিন থেকে ঢাকা ফিরেছে চঞ্চল চৌধুরী ও তাদের ‘হাওয়া’ টিম। সেন্টমার্টিনে শুটিং করতে গিয়ে ‘হাওয়া’ টিমকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কবলে পড়তে হয়। শুটিং ও ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র ভয়াবহতা নিয়ে

মেলা’র সঙ্গে আলাপ হয় চঞ্চল চৌধুরীর। সঙ্গে ছিলেন শাকিল মাহমুদ

শুটিংয়ের জন্য ৪০ দিন সমুদ্রে ছিলেন। দূরত্বের সেই অনুভূতি কেমন ছিল?

অভিনয় জীবনে এই প্রথম টানা ৪০ দিন ধরে বাসা ছেড়ে, প্রিয়জন ছেড়ে দূর সমুদ্র সেন্টমার্টিনে কাটিয়েছি। কষ্ট লেগেছে পরিবার, ঢাকা ছেড়ে থাকতে। তবে শুটিংয়ের সব বিষয়টা ছিল আমার কাছে যুদ্ধের মতো। প্রতিক‚ল পরিবেশে, এতগুলো মানুষ কাজটা শেষ করে আসতে পারব কিনা! এ রকম একটা বিস্ময়কর জিজ্ঞাসা ছিল। মূলত ‘হাওয়া’র শুটিংয়ের প্রতিটি দিন এমন ছিলো যে মাঝ সমুদ্রে যারা না গিয়েছে, অবস্থান না করেছে তাদের বলে সে সময়ের অনুভূতি বোঝানো যাবে না।

ফেসবুকে লিখেছেন যে, এ রকম গল্প নিয়ে এদেশে আর কোনো সিনেমা নির্মাণ হয়নি। গল্পটা আসলে কী রকম?

গল্প যেটা আছে সেটা গল্পের জায়গাতেই থাকবে, দর্শক হলে এসে গল্পটা দেখবে। তবে মোটাদাগে যেটা বলা যায়, মাঝ সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য শত শত ট্রলার যায়। সে ট্রলারগুলোর কতক ট্রলার সমুদ্রে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সে রকম দুর্ঘটনায় পড়া একটি ট্রলার ও সে ট্রলারের জেলেদের নিয়ে ‘হাওয়া’র গল্প। সিনেমায় জেলেদের সমুদ্রের সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে যে লড়াই করে বেঁচে থাকা, সেটা দেখানো হয়েছে সিনেমায়। যে বিষয়গুলো নিয়ে ‘হাওয়া’র শুটিং শেষ হলো সে বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত কোনো সিনেমা নির্মিত হয়নি। এই প্রথম মাঝ সমুদ্রে গিয়ে শুটিং করে জেলেদের সমুদ্রের সঙ্গে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যে লড়াই তা ‘হাওয়া’য় প্রথম তুলে ধরা হচ্ছে।

‘হাওয়া’ সিনেমায় আপনার চরিত্রটি কেমন?

এর আগে যে ক’টা সিনেমায় অভিনয় করেছি তাতে আমি চেষ্টা করেছি নতুন গল্প, নতুন চরিত্র নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হতে। যাতে দর্শক সে গল্প এবং চরিত্রটা পছন্দ করে। ঠিক তার আলোকে এ রকম একটা গল্পে, এ রকম একটা চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি যে চরিত্রে, যে লুকে দর্শক আমাকে আগে দেখেনি। এই সিনেমায় এটা একটা চমক। যে গল্প তা দর্শক পছন্দ করবে বলে আমি আশাবাদী।

শুটিংয়ের সময় ‘বুলবুল’ এর যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন সে সম্পর্কে কিছু বলুন…

এমনি সমুদ্রের মাঝে কাজ করা তো কঠিন। ভোর ৩টায় শুটিংয়ে যেতাম, ফিরতাম রাত ১১টায়। সারাদিন-রাত সমুদ্রের মাঝে শুটিং করাটা স্বাভাবিক অবস্থাতেই চ্যালেঞ্জিং। সমুদ্রে কখন জোয়ার-ভাটা হয়, কি দুর্ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে একটা শঙ্কা ছিল। এর মধ্যে যখন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব শুরু হলো তখনো আমরা যথারীতি যথা সময়ে শুটিংয়ের জন্য রওনা হই। কিন্তু সমুদ্রের কিছুটা গভীরে যাওয়ার পর দেখি বিশাল বিশাল ঢেউ। আমরা ট্রলারে দাঁড়িয়ে কি শুয়ে-বসেও থাকতে পারছি না। তারপর দশ মিনিটের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা সমুদ্র থেকে ফিরে আসি। ঘূর্ণিঝড়ের সময়টায় আমরা পাঁচদিন কাজ বন্ধ রাখলাম। তখনই সেন্টমার্টিনে ঘোষণা হলো সমুদ্রের পাড়ে না যাওয়ার। আমরা সবাই হোটেলেই থাকলাম পাঁচদিন। তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হলো ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব শুরু হওয়ার শেষ তিনদিনের দিন খাবারের সংকট দেখা দিল। ডিম-মাংস সেন্টমার্টিনের কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন এক ভয়াবহ, বিপজ্জনক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা শুটিং শেষ করে আসি।

সমুদ্রে দীর্ঘ সময় কাজ করার কোনো প্রভাব কি স্বাভাবিক জীবনে পড়েছে?

আমরা ৪০ দিন কেবল শুটিং করেছি। তার মধ্যে হলিডে ছিল। সব মিলিয়ে ৫০/৫৫ দিনের মতো ছিল। একটা চরিত্রে গিয়ে, গল্পকে ধারণ করে যে জার্নিটা হয়েছে ৪০/৫০ দিনে, সেটা তো চারটিখানি কথা না। আর যে গল্পে, যে চরিত্রে কাজ করেছি সে জীবনটা আমার জীবন না। মাঝ সমুদ্রে ভয়ভীতি, আতঙ্কে কাজ করে এসে স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্থ হতে, নতুন কোনো কাজে, নতুন কোনো চরিত্রে অভিনয় করত ব্যক্তিগতভাবে আমার কষ্ট হচ্ছে। ট্রমার ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে ভয়, ভীতি কাটিয়ে উঠতে আমার একটু কষ্ট হচ্ছে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj