পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং : তেঁতুলিয়ায় আব্দুর রব হত্যার রহস্য উদঘাটন

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : উপজেলায় মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের প্রায় ১ মাস পর হত্যা রহস্য উদঘাটন করে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার। গত বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে হত্যার বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ অক্টোবর সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ব্রহ্মতোল গ্রামের ঝিকধুয়া ¯øুইসগেটের নিচে মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ব্যক্তির নাম আব্দুর রব। তিনি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মৃত আলী করিমের ছেলে। নিহত আব্দুর রব পেশায় ছিলেন একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়িক সূত্রে তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের যুগিগছ গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মরিচ ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই থেকে দুজনে মরিচের ব্যবসা চালিয়ে আসতে থাকেন। নিহত আব্দুর রব বিভিন্ন সময় ব্যাংকের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠাতেন মানিক ও তার ব্যবসায়িক পার্টনারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। আর এই টাকা লেনদেনের কারণেই মানিক মিয়া ও তার ছেলে আমান দুজন মিলে আব্দুর রবকে নিজ বাড়িতেই হত্যা করে। লাশের গায়ে পেঁচানো বিছানার চাদর ও প্রযুক্তিগত তথ্যের সূত্র ধরে আসামি মানিকের স্ত্রী আফরোজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিলে সে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দেয়। তার দেয়া তথ্য মতে ১৯ নভেম্বর নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি এলাকা থেকে পলাতক আসামি মানিক ও তার ছেলে আমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ভিকটিমের মোবাইল পুকুর থেকে উদ্ধারসহ লাশ বহনের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। ২০ নভেম্বর আসামিরা যে ছুরিটি দিয়ে জবাই করেছে সেই ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়। দুজনেই আমাদের কাছে স্বীকার করেছে তারা হত্যাকাণ্ডটি করেছে। তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায়সহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj