শিশুর সর্দি-কাশি ও কিছু ভুল ধারণা

শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯

ডা. প্রহলাদ কুমার স¦প্নীল

সর্দি-কাশি শিশুদের একটি সাধারণ সমস্যা। তাই শিশুদের প্রায়ই সর্দি-কাশি হতে দেখা যায়। কোনো কোনো বাচ্চার বছরে ৬-৭ বারও এই সর্দি-কাশি হতে পারে। তবে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সামান্য শীতেই শিশুদের সর্দি-কাশি হতে পারে।

তাই মায়েদের মনে এই সর্দি-কাশি নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে কিছু ভুল ও বদ্ধ ধারণা। যেমন-

** ঠাণ্ডা লাগলে বাচ্চাকে গোসল করানো যাবে না

– বাচ্চাকে অবশ্যই গোসল করানো উচিত।

** কলা খেলে বাচ্চার ঠাণ্ডা লাগে

– কলা খেলে মোটেও ঠাণ্ডা লাগে না।

– তবে এটা খেলে মিউকাস বেশি নিঃসৃত হয়, তাই অতিরিক্ত কাশিতে কলা না খাওয়াই ভালো।

– এ ছাড়া কলাতে কারো এলার্জি থাকতে পারে।

** ফ্যানের নিচে রাখলে বাচ্চার ঠাণ্ডা লাগতে পারে

– এটাও মায়েদের একটা ভ্রান্ত ধারণা।

** মায়ের সর্দি-কাশি থাকলে বাচ্চাকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে না

– অবশ্যই খাওয়ানো যাবে এবং খাওয়াতে হবে।

– মায়ের হাঁচি-কাশি থাকলে তা থেকে বাচ্চা সংক্রমিত হতে পারে, তবে বুকের দুধ থেকে নয়।

** ঠাণ্ডা লাগলে বাচ্চার বুকে ও পিঠে তেল মালিশ করা উপকারী

– এটা উপকারী নয়, বরং অপ্রয়োজনীয়।

** ঠাণ্ডা লাগলে বাচ্চার বুকে ভিক্স বা বাম দিয়ে মালিশ করা জরুরি

– এটা করা একদমই ঠিক নয়।

** ঠাণ্ডা লাগলে মেশিনের সাহায্যে কফ পরিষ্কার করা যায়

– এটা মোটেও সম্ভব নয়; এটা একটা অপপ্রচার মাত্র।

– সাকার মেশিনের মাধ্যমে নাক ও মুখের লালা পরিষ্কার করাকেই লোকজন কফ পরিষ্কার করা বলে ভুল করে থাকেন।

** বাচ্চার ঠাণ্ডা লাগলে মাকে কলা বা টক জাতীয় খাবার পরিহার করা উচিত

– মায়ের কোনো খাবারের প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়া একেবারেই অনুচিত।

শিশু বিভাগ,

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj