মাদারগঞ্জে ‘পুকুর চুরি’ : পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ২ চেয়ারম্যানের

শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক, জামালপুর : জেলার মাদারগঞ্জে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় পুকুর ভরাট প্রকল্পে ‘পুকুর চুরি’র ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়না দোষ দিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুর রহমান বেলালের। প্রকল্পের ২০ শতাংশ টাকা না দেয়ায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে ভাবমূর্তি ক্ষুণেœর অভিযোগ তুলেন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় ২য় পর্যায়ে গৃহীত মাদারগঞ্জের ওয়েজ কস্টের ১৭ ক্রমিকের মোসলেমাবাদ নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাটের কাজ বরাদ্দ দেয়া হয়। ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকার এ প্রকল্পে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল ৫৩০ জন। ২০১৯ সালের ১৫ জুনের মধ্যে সম্পন্নের কথা থাকলেও এখনো চলমান আছে প্রকল্পের কাজটি।

পুকুর ভরাট কাজে সুবিধাভোগীদের কাজে না লাগিয়ে ৩নং গুনারীতলা ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়না ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে এ পুকুর ভরাট করিয়েছেন।

প্রকল্পের সব শর্ত লঙ্ঘন করে এ কাজ করায় ৩ জুন তারিখে স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান গং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুর রহমান বেলাল। তদন্তে ড্রেজার বসিয়ে পুকুরের মাটি কাটা ও নন-ওয়েজ কস্টের ২৫ ভাগ মাটি কাটা হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন তিনি।

পুকুর ভরাটে ‘পুকুর চুরি’র ঘটনা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়না। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুর রহমান বেলাল। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করতে তাকে ২০ শতাংশ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে সে কাজ আর করা যায় না।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদে মো. ওবায়দুর রহমান বেলাল পাল্টা অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আয়নার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছি। প্রতিবেদনটি তার বিপক্ষে চলে যাওয়ায় তিনি উল্টাপাল্টা বকছেন।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj