জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা : পরিবহন ধর্মঘটে নতিস্বীকার নয়

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন জেলায় অঘোষিত বাস ধর্মঘটের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন নেতারা। তারা নতুন আইন স্থগিত করে সংশোধনসহ নয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর ফলে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়ে বেড়ে যেতে পারে নিত্যপণ্যের দাম, যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেবে। আমরা দেখে আসছি, পরিবহন খাতে নৈরাজ্য চরমে পৌঁছানোর দৃশ্য। হুট করে ধর্মঘট ডেকে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের নিয়মিত বিষয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয় বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন। গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী নজিরবিহীন আন্দোলনের ফলে করা হয় এ আইন। আইনে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গে জরিমানা বেড়েছে হাজার গুণ পর্যন্ত। বেড়েছে কারাদণ্ডও। পরিবহন মালিক, শ্রমিকরা এতে অসন্তুষ্ট। নতুন সড়ক আইন সংশোধন করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন পরিবহন খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এমতাবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন আইন কার্যকর করতে সরকারও অনড়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, যত চাপই থাকুক, আইনটি বাস্তবায়ন করতেই হবে। বস্তুত জনগণও চায় আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন। এ আইনের প্রেক্ষাপট ভুলে গেলে চলবে না। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন আইনের জনদাবি ছিল দীর্ঘদিনের। যানবাহন চলাচলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যে স্বেচ্ছাচারিতা আমরা দেখছি তাও প্রতিরোধ করতে হবে কঠোরভাবে। দেশের যে কোনো পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ জানানো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যৌক্তিক, কিন্তু কোনো প্রতিবাদের ফলে যদি সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তবে তারচেয়ে পরিতাপের আর কিছু হতে পারে না। প্রতিবাদের নামে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে এভাবে দুর্ভোগের কবলে ফেলে সারাদেশের সঙ্গে রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন করা ঠিক নয়। এ ধরনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে ক্ষতি হয় তার দায় কে নেবে? সাধারণ মানুষের আশঙ্কা অবিলম্বে পরিবহন ধর্মঘটের অবসান না হলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জনগণকে জিম্মি করে আন্দোলনের ধারা আমাদের দেশে নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের আন্দোলন থেকে শুরু করে বেশিরভাগ দাবি আদায়ের আন্দোলনের প্রথম এবং প্রধান ভুক্তভোগী হয় জনগণ। কেননা জনগণকেই সবার আগে জিম্মি করে দাবি আদায় করার চেষ্টা করা হয়। ফলাফল হিসেবে সাধারণ মানুষকে দুর্বিষহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা বলব, পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের জিম্মি করে এ কর্মসূচি পালন করছে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকেই পরিবহন খাতে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। প্রতিবাদের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের মালিকের বিরুদ্ধে নিতে হবে ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় নয়। যেভাবেই হোক, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নতুন আইন কার্যকর করতে হবে। কোনো ধরনের চাপে নতিস্বীকার করা যাবে না।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj