দুর্নীতির অভিযোগ আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : দাকোপ উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিলডাঙ্গা ও পানখালী ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা অর্থ গ্রহণের এমন অভিযোগ এনে খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা আনসার ভিডিপির কমান্ডারের কাছে পৃথক দুটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

খুলনা জেলা প্রশাসক অফিসে দাখিলকৃত অভিযোগ ও সরেজমিন কথা বলে জানা যায়, উপজেলা আনসার ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত তার দোসরদের সহায়তায় টাকার বিনিময়ে ডিউটি বণ্টন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নাম বাদ দেয়া, আবার প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকরণ, ভুয়া নামের ডিউটি প্রদানসহ বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও দুর্গাপূজায় উপজেলার তিলডাঙ্গা ও পানখালী ইউপির আনসার ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সুযোগের অন্তরালে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যাপক অর্থ বাণিজ্য করেন। তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন কমান্ডার অরূপ মণ্ডল, এপিসি মো. আবুল বাসার, পানখালী ইউনিয়ন কমান্ডার মহাদেব মণ্ডল, সহকারী কমান্ডার রাধা রানী বালা এই অর্থ বাণিজ্যে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জাহানারা খাতুনকে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগে জানা যায়। তারা নির্বাচন ও পূজায় দায়িত্ব (ডিউটি) দেয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নেন। দুটি ইউনিয়নের সদস্যরা মুখ খুললেও ধারণা করা হচ্ছে এভাবে উপজেলার সব আনসার ভিডিপি সদস্যের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়।

অভিযোগে আরো জানা যায়, ২০১৯ সালের দুর্গাপূজায় তিলডাঙ্গা ইউয়িনের শংকর গোলদারের মেয়ে মায়া গোলদারকে ৬০নং পূজামণ্ডপের বটবুনিয়া কলেজিয়েট স্কুলে সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে দায়িত্ব পালনের জন্য তালিকায় নাম দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগেই তিনি ভারত চলে গেছেন। এ বিষয়ে আনসার সদস্যরা বলেন, মায়া গোলদারের জায়গায় এপিসি আবুল বাসার রবীন্দ্র গোলদারের স্ত্রী কমলা গোলদারকে মায়া গোলদার সাজিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে অর্থ উত্তোলন করা হয়।

অপরদিকে একই অভিযোগে পৃথকভাবে খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন পানখালী ইউনিয়ন আনসার ভিডিপির সদস্যরা। পানখালী ইউনিয়ন কমান্ডার মহাদেব মণ্ডল ৬নং ওয়ার্ডের দিলীপ গাইনের স্ত্রী আনসার ভিডিপি সদস্য তুফানী গাইনকে যশোরে সেলাই প্রশিক্ষণের কথা বলে ৩ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আনসার ভিডিপির প্রশিক্ষণে আমার ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও পানখালী ইউপির কমান্ডার মহাদেব মণ্ডল অফিসের কথা বলে আমার কাছে ১০০০ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা না দেয়ায় আমাকে এ পর্যন্ত ডিউটি দেননি।

এ ব্যাপারে তিলডাঙ্গা ইউনিয়ের আনসার ভিডিপি কমান্ডার অরূপ মণ্ডল বলেন, মায়া গোলদারের পরিবর্তে কমলা গোলদারকে ডিউটি দেয়া হয়। মায়া গোলদার বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের এপিসি আবুল বাসার বলেন, আমি কিছু জানি না, যা জানেন ইউনিয়ন কমান্ডার অরূপ মণ্ডল। পানখালী ইউনিয়ন কমান্ডার মহাদেব মণ্ডল বলেন, যাদের সনদপত্র আছে তাদের অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করায় আমি অন্যদের ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

আনসার ভিডিপির জেলা কমান্ডার খুলনা রেঞ্জের হাফিজ আল মোহাম্মদ গাদ্দাফি বলেন, দাকোপ উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহানারা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে একটি অনুলিপি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj