রেডিওর উদ্ভব কেমন করে হয়েছিল

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

দূরবর্তী কোনো স্থানের শব্দ ধ্বনি বা সংকোচ ধরার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম বা উপায় হলো রেডিও। পৃথিবীর কোথাও কি সংঘটিত হচ্ছে না হচ্ছে তার সব বিবরণ আমরা নিমেষেই পেয়ে যাই এর মাধ্যমে। মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য আজকাল রেডিও সবচেয়ে বড় উপকরণ। রেডিওর সাহায্যে আমরা শুনতে পাই বিভিন্ন রকম গান, বাজনা, খেলাধুলার তাৎক্ষণিক বিবরণী এবং আরো কত রকম সুন্দর অনুষ্ঠান ও তার ধারা বিবরণী। রেডিও কেমন করে উদ্ভব হয়েছিল এবং কেমন করে এর সব ব্যাপারটা কাজ করে?

বাস্তবিক পক্ষে, কোনো একক ব্যক্তি নিজেকে রেডিওর আবিষ্কর্তা হিসেবে দাবি করতে পারে না। অনেক বিজ্ঞানীর মিলিত প্রচেষ্টারই ফলশ্রæতি এই রেডিও। তবুও এই রেডিও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যাদের দানটা বেশি তারা হলেন জার্মানির বিজ্ঞানী হেনরিচ হাৎস, ইতালির গাগলিয়েপে¥া মার্কনি এবং আমেরিকার লি ডি ফরেস্ট। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ইংল্যান্ডের মাইকেল ফ্যারাডে হাতেকলমে প্রদর্শন করান যে, যদি কোনো তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চলে তা হলে তার চারদিকে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। এই বিদ্যুৎ প্রবাহ তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করতে সক্ষম এবং এই তরঙ্গকে অনেক দূর পর্যন্ত পাঠানো যেতে পারে। হাৎসই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই তরঙ্গের প্রকৃতি ও ধর্ম সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছিলেন।

এই সময়ে মার্কনির তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের বাস্তব প্রয়োগ দেখান তার তৈরি বেতার যন্ত্রে। মার্কনি বেতার যন্ত্রের আবিষ্কার কর্তার সম্মান পেলেও প্রকৃতপক্ষে সে সম্মান পাওয়া উচিত ছিল বাংলার বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর। কারণ তিনিই সর্বপ্রথম বেতার যন্ত্র তৈরি করেন। প্রকৃত প্রচারের অভাবে তিনি বিশে^র দরবারে অগ্রাধিকার পাননি। ১৯০৪ সালে স্যার জন এমব্রোজ ফ্লেমিং ডায়ড ভাল্ব তৈরি করেন। এই ভাল্বে থাকে একটা ক্যাথোড এবং একটা প্লেট, ক্যাথোড থেকে যখন ইলেকট্রন নির্গত হয়, তখন প্লেট সেই ইলেকট্রনকে কখনো আকর্ষণ আবার কখনো বিকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বা বিকর্ষণ আবার নির্ভর করে প্লেটে প্রযুক্ত বিভবমাত্রার ওপর। ১৯০৬ সালে লি ডি ফরেস্ট তৈরি করেন ট্রায়ড ভাল্ব। উপরোক্ত সব কিছু প্রয়োগ করে ১৯০৬ সালে প্রথম রেডিও তৈরি করা হয়। ১৯১০ সালের মধ্যেই গ্রাহক ও প্রেরণ যন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ ঘটে। তারপর এর আরো উন্নতি হয়েছে।

তোমরা কি জান কেমন করে আমরা রেডিও সংবাদ পাই? যখন কোনো ব্যক্তি সংবাদ প্রচার কেন্দ্রে গিয়ে কথা বলে তখন তার সেই মুখের শব্দ মাইক্রোফোনের সাহায্যে বিদ্যুৎ তরঙ্গে পরিণত হয়। এই বিদ্যুৎ তরঙ্গকে উচ্চ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের সঙ্গে মিশানো হয়। মিশ্রিত এই তরঙ্গকে বলা হয় নিয়ন্ত্রিত তরঙ্গ। নিয়ন্ত্রিত তরঙ্গকে প্রেরকযন্ত্রের এন্টিনার সাহায্যে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। যখন এই তরঙ্গ আমাদের গ্রাহকযন্ত্রের এন্টিনায় এসে ধরা পড়ে তখন এর ভিতর বিদ্যুৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয়। রেডিওর গ্রাহক যন্ত্র তখন বিদ্যুৎ তরঙ্গ নিয়ন্ত্রিত তরঙ্গকে পৃথক করে এবং তাকে পুনঃপরিবর্তন করে শব্দের মূল রূপ দান করে, আর তখনই আমরা প্রচারকেন্দ্রের প্রচারকের কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj