ভেজাল ওষুধ বিক্রিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত : হাইকোর্টের মন্তব্য

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ফার্মেসিতে ভেজাল ওষুধ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাত দিনের সাজা কম হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ভেজাল ওষুধ বিক্রি করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। এর আগে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

আদালত বলেন, একবার পাওয়ার পর যদি দ্বিতীয়বার কোনো ফার্মেসিতে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করতে হবে। যেখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১৩ হাজার ৫৯৩টি ফার্মেসি পরিদর্শন করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৭২টি মামলা দায়ের করে। এতে এক কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একইসঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ও ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে দুটি ফার্মেসি সিলগালা করা হয়। ওই দুই মাসের মধ্যে ৩৪ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৪৩ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়।

আদালতে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের সঙ্গে আমরা একমত। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ যেন বাজারে না থাকে এটা আমরাও চাই। এরপর আদালত প্রতিটি ওষুধের স্ট্রিপে (পাতায়) বাংলায় নাম, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে লেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন। ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ফ্যাক্টরি মালিকদের সঙ্গে এ নিয়ে বসে আলোচনা করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দিব। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

জনস্বার্থে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর সারাদেশে বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার, জব্দ ও ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ২৮ জুন রুলসহ নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহকারী, সংরক্ষণ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ?নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। রুলে ফার্মেসি, ওষুধাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণ বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও মহাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আদালতে প্রতিবেদন দিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj