গুজব নিয়ন্ত্রণে কতটা সক্ষম পুলিশ

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

আসলাম রহমান : প্রযুক্তির কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ক্রমশ বেড়ে চলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার। যার সুযোগে একের পর এক ঘটছে সহিংসতার ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট এবং গুজব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখনো পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, রংপুরের পাগলাপীর এলাকায় ফেসবুকের অপপ্রচার থেকে ভয়াবহ সহিংসতার কথা মনে পড়লে এখনো আঁতকে ওঠেন অনেকে। সর্বশেষ এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে ভোলার বোরহানউদ্দিনে। পুলিশ আর বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থীসহ ৪ জন নিহতের ঘটনার পেছনেও ঘুরেফিরে জড়িয়ে আছে ফেসবুক। এ ছাড়া ফেসবুকে মাথাকাটা গুজব ছড়িয়ে অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা) এ ঘটনায় রাজধানীসহ সারাদেশে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

যদিও পুলিশ বলছে, সামাজিক মাধ্যমের বেশির ভাগ গুজবের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থার সহায়তায়। তবে দুয়েকটি ঘটনা ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় দেশের কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা ভোরের কাগজকে বলেন, ডিএমপিসহ সারাদেশের ইউনিটগুলোতে আমাদের শক্তিশালী সাইবার মনিটরিং সেল রয়েছে। পাশাপাশি সিআইডিতে আলাদা সাইবার পুলিশ রয়েছে। এরা নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং করে। এরা সাইবার জগতে গুজবসহ কোনো উপাদান যদি পায়, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সফল হই, আগে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিই। কখনো কখনো আমরা বিফল হই, আগে ভাগেই ভাইরাল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিই।

ভোলার ঘটনা কেন পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি? জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, দুয়েকটা বিষয় আমাদের চিহ্নিত করার আগেই ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি বিশাল প্লাটফর্ম। শত কোটি মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত। এখানে অগণিত মানুষের অগণিত একাউন্ট থেকে কে কখন কী অ্যাক্টিভিটিস চালাচ্ছে তা নিখুতভাবে মনিটরিং করা কঠিন। আমাদের চোখ এড়িয়ে দুয়েকটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। যখনই কোনো ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে তাৎক্ষণিক সেটাকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু সাইবার টিম দিয়ে এটা নজরদারি করা সম্ভব না। এর সঙ্গে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার বিষয় রয়েছে। কোটি কোটি মানুষের কোটি কোটি অ্যাকাউন্ট, প্রতি মুহূর্তে কোটি কোটি পোস্ট তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ এটা শুধু পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে কখনোই ফিজিক্যালি চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য জনসম্পৃক্তরা খুবই জরুরি। মানুষকে সচেতন হতে হবে, সবার অংশগ্রহণ দরকার। এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের মানসিকতার পরিবর্তন করা, যাচাই না করে কোনো কিছুকে বিশ্বাস না করা।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj