বিআরটিএতে বেজায় ভিড়

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

আসলাম রহমান : নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বাধ্যবাধকতায় ভিড় বেড়েছে রাজধানীর মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ে। সকাল থেকেই একের পর এক গাড়ি নিয়ে হাজির হচ্ছেন চালকরা। আগের চেয়ে কড়া শাস্তি ও বেশি জরিমানা থেকে রেহাই পেতে গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেট, ফিটনেস সনদ ও নিজের লাইসেন্স সংগ্রহ করতে লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন তারা। এই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দালালচক্র। অন্যদিকে বাড়তি চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন বিআরটিএর কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার বিআরটিএতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের যানবাহনের মালিক ও চালকদের ব্যাপক ভিড়। ভেতরে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলে, বাস-ট্রাকের সারি সারি লাইন। বিআরটিএর প্রবেশমুখে মোটরসাইকেলের ডিজিটাল নম্বর প্লেটের বিতরণ চলছে। কয়েকশ’ মোটরসাইকেল চালক ডিজিটাল নম্বর প্লেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। গাড়ির ফিটনেস সেন্টারে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে প্রাইভেট কার, বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। ফিটনেস টেস্টে কাজ করছেন বিআরটিএর সহকারী ফিটনেস পরিদর্শকরা। অন্যদিকে লাইসেন্স শাখায় গ্রাহকদের ছবি তোলা ও ফিঙ্গার প্রিন্ট দেয়ার লাইনটিও ছিল অনেক বড়। এ ছাড়াও বিআরটিএর সব কটি কক্ষের সামনে দেখা গেছে প্রচণ্ড ভিড়।

আগে যারা অলসতায়, কিংবা ক্ষমতার দাপটে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের ‘ঝামেলা’য় যাননি, তারাই এখন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন মিরপুর বিআরটিএতে। পেশাদার চালকরা তো বটেই, অন্য শ্রেণির লাইসেন্স প্রত্যাশীরাও লাইনে দাঁড়িয়ে যোগ্য চালকের খাতায় নিজের নাম লেখাতে ব্যস্ত। তবে লাইসেন্স নিতে আসা অনেককেই ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে।

১বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে আসা চালকদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নাটোর থেকে আসা আবু কালাম গতকাল সোমবার ভোরের কাগজকে জানান, তিনি নাটোরে থাকলেও ঢাকা থেকে লাইসেন্স নিতে চান। লাইসেন্স পেতে সঠিক কোন কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে তা না জানায় সকাল থেকে এক রুম থেকে আরেক রুমে ঘুরছেন। পরে এক হাজার টাকা চুক্তিতে দালালের আশ্রয় নেন।

মানিকগঞ্জ থেকে মনতোষ বড়–য়া এসেছেন গাড়ির মালিকের নাম বদলের জন্য। তিনি বলেন, নতুন আইনে শাস্তি ও জরিমানা দুটোই বেশি। তাই নাম বদল করে নিজে মালিক হয়ে গাড়ি চালাতে চাই। কিন্তু একদিকে প্রচণ্ড ভিড়, অন্যদিকে স্বাক্ষরের জন্য এ রুম থেকে আরেক রুমে ঘোরানো হচ্ছে। তাই দ্রুত কাগজ পেতে তিনিও দালালের শরণাপন্ন হয়েছেন।

ট্রাকচালক আল আমিন বলেন, ফিটনেস সনদ না থাকলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, আবার জেলও দেবে। এরপরও কত হয়রানি আছে! তাই ফিটনেস সনদের জন্য এসেছি।

বিআরটিএ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম ভোরের কাগজকে বলেন, সড়ক পরিবহন নতুন আইন হওয়ার আগে এত লোকের সমাগম হতো না। কিন্তু নতুন আইনে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বেশি হওয়ায় পরিবহন মালিক ও চালকের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। এ কারণে সব ধরনের গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেট, ফিটনেস সনদ, লাইসেন্স সংগ্রহ ও আবেদন করতে বিআরটিএতে মানুষের হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ফিটনেস সনদ ও লাইসেন্সের জন্য বেশি লোক আসছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় কাজের চাপ ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ফিটনেসের জন্য গত রবিবার ১১৫২টি আবেদন জমা পড়ে। এই বাড়তি চাপ সামলাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। বিআরটিএতে লোকবল সংকট রয়েছে। কাজের চাপ সামলাতে প্রতিদিন আমাদের রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

আরেক সহকারী পরিচালক রফিকুল আলম বলেন, আগের তুলনায় বিআরটিএতে চাপ অনেক বেড়েছে। নতুন আইনের শাস্তি ও জরিমানা থেকে রেহাই পেতে মালিক-চালক সবাই সব ধরনের কাগজ ঠিক করতে আসছে। চালকদের মধ্যে একটা পরিবর্তন আসছে। আমরাও চাই যানবাহনের কাগজ আপডেট করেই সবাই সড়কে নামুক। ‘দালালদের দৌরাত্ম্য’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দালালদের উৎপাত নেই। যারা এখানে আসে তারা নিজের কাজ নিজে করবে, দালালদের কাছে যাবে কেন?

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj