ঢাকার দুই সিটিতে ভোট জানুয়ারির শেষার্ধে

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আগামী বছরের মধ্য জানুয়ারিতে আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত রবিবার কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এমনই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় থেকে জানা যায়, আগামী ১৫ নভেম্বর ঢাকা উত্তর ও ১৮ নভেম্বর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। এর ৯০ দিনে মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। সে কারণে নির্বাচনের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারির পর ভোটগ্রহণ করতে চায় ইসি। ইভিএমের মাধ্যমে চলতি ভোটার তালিকা দিয়ে এই দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

সে হিসেবে নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের প্রথমেই তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। আসছে সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এ সাংবিধানিক সংস্থাটি। তাই চলতি নভেম্বরের শেষে তফসিল না হলেও ডিসেম্বরের ২ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসির তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এরই মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, প্রয়োজনীয় নির্বাচনীসামগ্রীর পরিমাণ নির্ধারণ, তিন সিটি নিয়ে দায়ের হওয়া পাঁচটি রিটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তথ্য নেয়া, বাজেটসহ আনুষঙ্গিক কাজও শেষ করে আনছে কমিশন সচিবালয়। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণেরও প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। এর আগেও তিন সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক করেছে কমিশন।

ইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিসেম্বরের প্রথমে তফসিল এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে ইসির। আর চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন মার্চের পরে হতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি সরকারের গ্রিন সিগন্যালের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা এবং মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। এ সময়ে নির্বাচন করতে চায় না কমিশন। এসব বিবেচনায় জানুয়ারিতেই ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ করতে চায় ইসি। ওই সময়ে স্কুলগুলোতে পরীক্ষা থাকবে না এবং শীত মৌসুম থাকায় ভোটের উপযুক্ত পরিবেশ থাকবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, কমিশনের গত সভায় ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় জানুয়ারির মধ্যেই দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। সেই অনুযায়ী কাজ করছে কমিশন সচিবালয়। তবে তফসিল ও ভোটের সময়সূচির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

ইসির সিনিয়র সচিব মো.আলমগীর বলেন, আগামী ১৫ নভেম্বর ঢাকা উত্তর ও ১৮ নভেম্বর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। এর ৯০ দিনে মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণে নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের শুরুতে যে কোনো দিন এ দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে আমরা ভোট নিতে চাই। ইভিএমের মাধ্যমে চলতি ভোটার তালিকা দিয়ে এই দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ করা হবে। ইসি সচিব বলেন, যেহেতু এখনো সময় হয়নি তাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মার্চের শেষ বা তার পরে নতুন ভোটার নিয়ে হালনাগাদ তালিকার মাধ্যমে এ সিটিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

সিটি নির্বাচনে কোনো আইনি জটিলতা আছে কিনা- এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, কোনো আইনি জটিলতা আমরা এখনো দেখছি না। ইভিএমের মাধ্যমে দুই সিটি ভোট নেয়া চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ তো বটেই। তবে আমরা এ নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম। এ নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছেন বলেও জানান ইসি সচিব।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একসঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj