সবার ওপরে রাজ্জাক

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আবদুর রাজ্জাকের ধারেকাছেও নেই বাংলাদেশের আর কোনো বোলার। ১৩৩ ম্যাচে খুলনায় জন্ম নেয়া বাঁহাতি এই স্পিনারের সংগ্রহ ৬১২ উইকেট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনামুল হক জুনিয়র পেয়েছেন ১৩০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪৮৩ উইকেট। তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন মোহাম্মদ শরীফ। সেরা পাঁচে তিনিই একমাত্র পেসার। ১৩২ ম্যাচে তার উইকেট ৩৯৩টি। চতুর্থ স্থানে থাকা বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেলের ১১২ ম্যাচে ৩৯২ উইকেট। পঞ্চম স্থানে থাকা সাকলাইন সজীবও বাঁহাতি স্পিনার। ৯১ ম্যাচে তিনি উইকেট নিয়েছেন ৩৬২টি। টেস্টে বাংলাদেশ জাতীয় দলে কখনই নির্বাচকদের সেরা পছন্দ ছিলেন না। ক্যারিয়ারটা তাই থেমে আছে ১৩ টেস্টেই।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে অনেক আগেই। নতুন করে সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নও দেখেন না। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্মার তিনি। এবার তার হাতে গড়া হলো নতুন ইতিহাস। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬০০ উইকেটের মালিক হলেন বর্ষীয়ান এই স্পিনার। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০০ উইকেটও তিনি একমাত্র ক্রিকেটার। চলতি এনসিএলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন রাজ্জাক। গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেটের মাইলফলকে পা রাখেন রাজ্জাক। এবার ৬০০ উইকেটেও তিনিই প্রথম। ২ নভেম্বর জাতীয় লিগের চতুর্থ রাউন্ডে প্রথম স্তরের ম্যাচে রংপুর বিভাগের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন খুলনা বিভাগের অধিনায়ক। এই ম্যাচে খেলতে নামার আগে ১৩১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫৯৪ উইকেট ছিল বাঁহাতি এই স্পিনারের। রাজ্জাক সেই ঘাটতিটা পূরণ করে দিলেন প্রথম ইনিংসেই, বিধ্বংসী বোলিংয়ে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রংপুর বিভাগের ব্যাটসম্যানদের রীতিমতো কোণঠাসা করে রেখেছিলেন রাজ্জাক। একে একে উইকেট তুলে নিতে থাকেন। রবিউল হককে বোল্ড করে ছুঁয়ে ফেলেন ৬০০ উইকেটের মাইলফলক। এরপর আরো এক উইকেট নিয়েছেন। ইনিংস শেষে বোলিং ফিগারটাও ঈর্ষা জাগানোর মতো ২৪.১-৭-৬৯-৭। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই বিশাল অর্জনে ম্যাজিক্যাল উইকেটটি নিয়ে তেমন একটা উচ্ছ¡াস দেখাননি তিনি। মাইলফলকের কথা মনে পড়তেই ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে শুধু হাত উঁচিয়ে ধরেন। ৬০০ উইকেটের ৬ উইকেট দূরে থেকে ওই ম্যাচ শুরু করেছিলেন রাজ্জাক। দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে বিসিএলের ম্যাচটিতে সাদমান ইসলাম ছিলেন তার ৫০০তম শিকার। আর ৬০০তম শিকার হলেন রংপুরের তরুণ পেসার রবিউল হক। ৪০০ থেকে ৫০০ ছুঁতে ১১৩ ম্যাচ লেগেছিল রাজ্জাকের। ৬০০ স্পর্শ করতে লেগেছে ১৩২তম ম্যাচ।

মিরপুরে এনসিএলের ম্যাচটির প্রথম দিনে খুলনার হয়ে রংপুরের বিপক্ষে ৬৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন রাজ্জাক। দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৩ উইকেট। ইনিংস শেষ করেন ৭১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে। এই নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মোট ৪০ বার ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন রাজ্জাক। ৩৭ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার ম্যাচে মোট ১২ উইকেট নিয়েছেন ১৪০ রান দিয়ে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করলেন এই নিয়ে ১১ বার। দিন দিন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন আবদুর রাজ্জাক, তাকে ছুঁতে পারাও হবে বিশাল এক রেকর্ড। খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে ২০০১-০২ মৌসুমে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন আবদুর রাজ্জাক। অভিষেকেই রাজ্জাক বামহাতি স্পিনার হিসেবে সবার নজর কাড়েন এবং নিজ দলকে জাতীয় ক্রিকেট শিরোপা পেতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেন।

:: আ ত ম মাসুদুল বারী

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj