জানা অৎানা : অলিম্পিক

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

দিনকে দিন অলিম্পিকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আধুনিক কালের বৃহত্তম খেলাধুলার আসর অলিম্পিক গেমস প্রতি ৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ১৮৯৬ সাল থেকে। এখন পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশ অংশ নিচ্ছে অলিম্পিক গেমসে। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে প্রথম অলিম্পিক গেমসে অংশ নেয়। ৭৭৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে শুরু করে ৩৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১২০০ বছর প্রাচীন গ্রিসের এলিসের অলিম্পিক ভিলেজে অলিম্পাস পাহাড়ের পাদদেশে দেবতা জিউসের উদ্দেশ্যে ৪ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হতো অলিম্পিক গেমস।

তার প্রয় ১৫০০ বছর পর ফরাসি শিক্ষাবিদ ব্যারন পিয়েরে ডি কুব্যার্তা প্রাচীন গ্রিসের সে ঐতিহ্যকে পুনর্জাগরিত করে আধুনিক অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সচেষ্ট হন। কুব্যার্তার সক্রিয় প্রচেষ্টায় ১৮৯৪ সালে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আর ১৮৯৬ সালে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বসে আধুনিককালের প্রথম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস। ১৯০০ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অলিম্পিক গেমসে প্রথম মহিলাদের অংশগ্রহণ শুরু হয়। অলিম্পিক পতাকায় সাদার ওপর পাঁচটি রঙিন বৃত্ত রয়েছে। পাঁচটি বৃত্ত দিয়ে পৃথিবীর পাঁচটি প্রধান ভৌগোলিক এলাকা, এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে। বৃত্তগুলোর রং পর্যায়ক্রমে নীল, হলুদ, কালো, সবুজ ও লাল। পৃথিবীর সব দেশের পতাকায় এর অন্তত একটা রং বিদ্যমান। বৃত্তগুলো একে অপরের সঙ্গে জুড়ে থাকার অর্থ হলো যে অলিম্পিক গেমস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশগুলোকে মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। ১৯১৩ সালে পিয়েরে ডি কুব্যার্তা এই পতাকা তৈরি করেন। অলিম্পিকে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান লাভকারীদের জন্য সোনা, রুপা এবং ব্রোঞ্জের পদক দেয়া হয়। পদকের নাম সোনা রুপা বা ব্রোঞ্জ হলেও তা কিন্তু একমাত্র ওই ধরনের ধাতু দিয়ে তৈরি নয়। যেমন স্বর্ণ পদক হলো ৫৫০ গ্রামের (৯২.৫%) রুপার ওপর ৬ গ্রাম সোনার প্রলেপ দেয়া, রৌপ্য পদক শুধুমাত্র রুপা দিয়ে এবং ব্রোঞ্জপদক টিন, সিসা এবং দস্তা দিয়ে তৈরি। শুধুমাত্র সোনা দিয়ে তৈরি স্বর্ণপদক শেষ দেয়া হয় ১৯১২ সালে। আয়োজক দেশের জাতীয় অলিম্পিক কমিটি এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি যৌথভাবে প্রতিটি ইভেন্টের পদকের নকশা করে থাকে। প্রতিটি পদক গোলাকৃতি, ৩ মিলিমিটার পুরু এবং ৬০ মিলিমিটার ব্যাসের। ১৯৩২ সালের লস এঞ্জেলস অলিম্পিকের আগ পর্যন্ত বিজয়ীদের পদক দেয়া হতো অলিম্পক গেমসের শেষ দিনে। ওই অলিম্পিক গেমসে ইভেন্ট শেষ হওয়ার পর পরই পদক দেয়ার নিয়ম শুরু হয় এবং ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিক থেকে ফিতা দিয়ে ঝোলানো পদক বিজয়ীর গলায় পরিয়ে দেয়ার নিয়ম শুরু হয়।

১৯২০ সালের এন্টোয়ের্প (অহঃবিৎঢ়, ইবষমরঁস) অলিম্পিকে প্রথম অলিম্পিক পতাকা ব্যবহার করা হয়। আধুনিক অলিম্পিকের জনক কুব্যার্তা অলিম্পিক শপথ রচনা করেন। অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধন দিনে একজন ক্রীড়াবিদ সব ক্রীড়াবিদের পক্ষ থেকে এই শপথ পাঠ করে থাকেন ‘সব ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে আমি শপথ নিচ্ছি যে আমরা অলিম্পিক গেমসের সব নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব, খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়ে আমরা অলিম্পিকের সম্মান এবং মর্যাদা সমুন্নত রাখব।

১৯২০ সালের অলিম্পিকে বেলজিয়ামের অসিচালনা ক্রীড়াবিদ ভিক্টর বোইন প্রথম শপথবাক্য পাঠ করেন। সাধারণভাবে অলিম্পিক গেমস বলতে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসকে বোঝানো হলেও ১৯২৪ সাল থেকে শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের প্রচলন হয়। শীতকালীন এবং গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক একই বছর অনুষ্ঠান শুরু হলেও ১৯৯২ সালে এসে শীত এবং গ্রীষ্ম অলিম্পিক ২ বছর পর পর অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে শীতকালীন অলিম্পিক ১৯৯২ সালের পর ১৯৯৪ সালে পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ অলিম্পিক গেমস বা ‘প্যারা অলিম্পিক গেমস’ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ১৯৬০ সাল থেকে। অলিম্পিক গেমসের আয়োজক শহর গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের পর পরই প্যারালিম্পিক গেমসের আয়োজন করে থাকে। অলিম্পিক গেমসে প্রথম মাস্কটের ব্যবহার হয় ১৯৬৮ সালের মেক্সিকো সিটির অলিম্পিক গেমসে। মেক্সিকোর অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদরা জাগুয়ার এবং সাদা ঘুঘু পাখি মাস্কট হিসেবে ব্যবহার করেন।

:: কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj