রাজনীতি হোক দেশপ্রেমিক তরুণদের আশ্রয়স্থল

সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ। পৃথিবীর বুকে স্বাধীন ও সার্বভৌম এক খণ্ড ভূমি। জন্মটাই যার লাখো হারানোর অশ্রæ আর রক্তের মাঝে। উঠে দাঁড়ানো, আবার আঘাত লেগে পড়ে যাওয়া, পিছিয়ে যাওয়া। এভাবেই চলছে দেশটি। আয়তনের তুলনায় বসবাসকারীর সংখ্যা বেশি। আছে আরো অনেক অনেক সমস্যা। তবুও লড়াই করে যাচ্ছে। স্বপ্ন দেখে যাচ্ছে একদিন বাংলাদেশের নাম পাওয়া যাবে উন্নত দেশের তালিকায়; যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাস থেকে শুরু করে সব সুবিধা হবে সবার জন্য অবারিত ও সুলভ। হ্যাঁ, স্বপ্ন দেখছি আমরা। এই স্বপ্ন কেবল স্বপ্নেই আটকে থাকছে না। একদিন আমরাই স্বপ্ন দেখেছিলাম পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে মাথা উঁচু করে কেড়ে নেব একটি মানচিত্র। রচিত হবে একটি নিজস্ব পতাকা আর জাতীয় সঙ্গীত। পেরেছিলাম। যোগ্য নেতৃত্বের হাতে স্বপ্নের মানচিত্র থাকলে সেখানে কোনো লঙ্ঘন আসে না। গোটা জাতিকে যখন স্বপ্নের পাশাপাশি বাস্তবতার পথের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় তখনই সেটা বাস্তব হয়ে যায়। সেই স্বপ্নদ্রষ্টার নাম ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাকে আমরা জাতির পিতার আসনে বসিয়েছি। জাতির পিতা একজনই হতে পারেন। তিনি একজন নেতাও ছিলেন। যোগ্য পিতার মতো ভাঙাচোরা একটি দেশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন যিনি, তাঁকে হত্যা করেছিল কাপুরুষরা। ভয় পেয়েছিল তাঁর রাজনীতিকে। কী ছিল সেই রাজনীতি? তাঁর রাজনীতির একটাই নাম, একটাই দল ছিল। বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রাজনীতিকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। অন্য কিছু নয়।

১৯৭৫-এর কালো অধ্যায়কে আমরা ভুলে যাইনি। এই দেশকে মেধাশূন্য করার পাকিস্তানি কৌশলেই এগিয়েছে তাদের লোকাল এজেন্টরা। তাই তো রাজনীতিকে করে দিয়েছিল সবচেয়ে ঘৃণ্য। মেধা আর রাজনীতি যেন একে অপরের বিপরীত হয়ে গিয়েছিল। আর এই ফাঁকেই রাজনীতির মাঠ দখলে নিয়েছে কিছু দুর্বৃত্ত যাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল কেমন করে এই দেশটাকে লুটেপুটে খেয়ে সাবাড় করে দেয়া যায়। দেশপ্রেম, দেশের স্বার্থ এই কথাগুলো তাদের কাছে ছিল তিরস্কারের উপাদান। জেনারেল জিয়ার নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ’ নামক দলটির রাজনীতিকে করে দেয়া হলো কালো তালিকাভুক্ত। বাংলাদেশ নামটি যেন কেউ উচ্চারণ করতে না পারে তার জন্য যা যা পদক্ষেপ নিতে হয়, নিয়েছিল জিয়ার দল। সেই ধারাবাহিকতায় এসেছে এরশাদ, খালেদা জিয়া সবাই। আর এরই বীজ থেকে জন্ম নেয়া আগাছারা হচ্ছে আজকের তারেক জিয়া, রাঙ্গার মতো রাজনীতিবিদরা। তারা কি আসলেই রাজনীতিবিদ? কেমন করে? আমরা তো শিখেছি রাজনীতি মানেই বাংলাদেশ। রাজনীতি মানেই বঙ্গবন্ধু। তাহলে কেমন করে তবে আজকে রাঙ্গার মতো অশিক্ষিত, অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা পবিত্র সংসদে বসার সুযোগ পেল? প্রশ্নগুলো করতে হবে আমাদেরই। কেবল গালাগাল দিয়েই সমাধান পাওয়া যাবে না। রাজনীতি করতে হলে সেটি শিখে আসতে হয়। কার জন্য রাজনীতি, কেন, কেমন করে এবং কতটা পারা যায় এসব কিছুকে পরিষ্কার করেই আসা লাগে এই রাস্তায়। এই যে আজকে পেঁয়াজ নিয়ে যে কাণ্ড চলছে এর পেছনের কারণটা কী? আমরা সবাই তো বাংলাদেশি। এখানে তবে কেন কিছু লোক মিলে গোটা দেশকে জিম্মি করে ফেলতে পারছে? কেন আজকে রাষ্ট্র অসহায় হয়ে পড়ে সড়কের শ্রমিক নেতাদের কাছে? উত্তর জানা থাকাটা জরুরি। আর এর সমাধানেও এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরই।

বর্তমান দেশ চলছে পরিবর্তিত এক রাস্তায়। গতানুগতিক ধ্যানে যারাই এগোতে চাইবে তাদের ফেলে দিতে হবে চোরাগলিতে। একদম পরিষ্কার হিসাব। এর দায়িত্ব নেবে কারা? দায়িত্ব এই আমাদেরই নিতে হবে। আমরা যারা চাই বাংলাদেশে কেবল ‘বাংলাদেশিরাই’ থাকবে আর কেউ নয়। যাদের চিন্তায় ও ধ্যানে থাকবে কেবল দেশ ও দশের কল্যাণ। এই রাজনীতিতে কেউ সাধারণ মানুষের স্বার্থকে জিম্মি করার কথা ভাবতেও সাহস পাবে না। এই দলের নেতৃত্ব দেবে নতুন প্রজন্ম, নতুন চিন্তা, নতুন উন্মেষ। এর সদস্যরা প্রতিযোগিতা করবে বিশ্বের সঙ্গে, নিজের দেশের মানুষের সঙ্গে নয়। বিশ্বকে কেমন করে অবাক করে দেবে ভাবনায় কেবল এসব থাকবে। অন্তরে দেশ আর শরীরে থাকবে জয়ের গান।

আমি আশান্বিত, কারণ এই ধারাটি শুরু করেছে বর্তমান আওয়ামী লীগের একটি অংশ যার থিংক ট্যাংক হিসেবে কাজ করছেন জাতির জনকের দুই দৌহিত্র। সারাদেশে তারা তারুণ্যের ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। ভাবনাকে জানছে আর নিজেদেরও সমৃদ্ধ করতে চাইছে। ভালো-মন্দ বিচার করার সময় হয়তো এখনো আসেনি তবে ‘আই হেইট পলিটিক্স’ প্রজন্মকে জানতে হলে যেতে হবে তাদের কাছে। আরো বেশি বেশি করে তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মসিউর রহমান রাঙ্গাদের মতো অপাঙ্ক্তেয় রাজনীতিবিদদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে নতুন রক্তের প্রবেশ ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা সামনে খোলা নেই। মনে হতে পারে আমি হয়তো আওয়ামী লীগের জয়গান করতে চাইছি। না। আমি কোনো দলের রাজনীতিকে ধারণ করি না তবে কোনো রাজনৈতিক দল যদি আমার আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে এগোতে চায় তবে তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার নীতিতেও আমি বিশ্বাস করি না। তাই বর্তমান আওয়ামী লীগের যে কাজটিকে আমি মনে করছি সময়োপযোগী সেটিকেই রেফারেন্স হিসেবে আনলাম মাত্র। রাজনীতিকে ঘৃণা নয় বরং ভালোবেসেই এগিয়ে আসতে হবে মেধাবী ও চৌকস তারুণ্যকে যারা ভাবতে পারে, ভাবাতে পারে। নতুনকে চিনতে পারে, চেনাতে পারে, গ্রহণ করতে পারে। যারা পরিবর্তনে বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করাতে পারে ও পরিবর্তনকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারে। একে একে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ইতিহাস সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদরা। মাথায় রাখা দরকার এই শূন্যস্থান যেন আর কোনো রাঙ্গারা দখলে নিতে না পারে।

লীনা পারভীন : কলাম লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মো. বিল্লাল হোসেন

পথ চলতে ফোন নয়

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

অর্থনৈতিক মুক্তির পথে বাংলাদেশ

Bhorerkagoj