দিনাজপুরে কারেন্ট পোকা ও ব্লুাস্ট রোগের আক্রমণ : দিশাহারা কৃষক

সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

মো. দেলোয়ার হোসেন, দিনাজপুর থেকে : দূর থেকে দেখলে মনে হয় পাকা ধানে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা যায় অন্যচিত্র। ধান না পাকতেই শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে আমন ধানের গাছ। ধান ক্ষেতে ধানের শীষ দাঁড়িয়ে থাকলেও ধানের ভেতরে নেই চাল। দাঁড়িয়ে আছে শুধুমাত্র চিটা ধানের শীষ। ধানের শীষ বের হওয়ার মৌসুমে ধানের শীষের গোড়া কারেন্ট পোকায় কেটে ফেলায় এমন হয়েছে বলে জানান ধানচাষিরা। ফলে ধানের শীষ বের হলেও শীষে ধান নেই শুধুই শুকনো চিটা। ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকা, বাদামি গাছ ফড়িং, কালো মাজরা ও ব্লুাস্টসহ নানা রোগ দেখা দেয়ায় অকালেই ঝরে যাচ্ছে হাজার হাজার একর জমির ধান। ফলে রাত-দিন পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে কৃষকদের। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে ধানচাষিরা জানান।

বারবার লোকশান গোনার পর এবার যখন সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সরকারি সিদ্ধান্ত হয় ঠিক সেই মুহূর্তে আমন ক্ষেতের এই অবস্থায় কৃষকদের সেই স্বপ্নও বিবর্ণ হয়ে গেছে। ধান পাকার আগ মুহূর্তে ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকা আর ব্লুাস্ট রোগের আক্রমণে সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে কৃষকদের।

কৃষক মমতাজ আলী মাস্টার জানান, ৪ একর জমিতে এবার ব্রি-৩৪ (জিরা কাঠারী) আবাদ করেছেন। কিন্তু শেষ সময়ে এসে ব্লুাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে ধানক্ষেত। কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে মাঠে না পেয়ে স্থানীয় দোকান থেকে কীটনাশক নিয়ে এসে প্রয়োগ করেছেন। কীটনাশক প্রয়োগের আগেই অনেকটা ফসল আক্রান্ত হয়ে পড়ায় এবার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

একই এলাকার কৃষক সুশীল চন্দ্র রায় জানান, ৪ বিঘা জমিতে ব্লুাস্টের আক্রমণে ধান অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকায় আগে একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এলেও এখন কে দায়িত্বে আছেন তা তিনি জানেন না। ফলে কীটনাশকের দোকানদারের পরামর্শ নিয়েই ওষুধ প্রয়োগ করছেন কিন্তু তেমন লাভ হচ্ছে না।

ওই এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, ৫ একর জমির মধ্যে হঠাৎ ব্লুাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ায় তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ধান আবাদ করে দাম না পেয়ে প্রতিবারই লোকশন হচ্ছে। এবার সরকার ধান কিনবে এমন খবর শুনে বেশ আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু ধান পাকার আগ মুহূর্তে সেই আশায় গুড়েবালি। তিনি আরো বলেন, অন্যান্যবার ফসলের লাভ খেয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এবার খাচ্ছে পোকা ও ব্লুাস্ট রোগে। একই অবস্থা দিনাজপুরের বিরলসহ ১৩টি উপজেলায়।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবার রহমান জানান, আবহাওয়া এবার অনুক‚লে রয়েছে। উপজেলায় এবার খরিপ-২/২০১৯-২০ অর্থবছরে রোপা আমন জাতের মধ্যে ব্রি-৩৪ ধান ১৫ হাজার ৪৬৪ হেক্টর, গুটি স্বর্ণা ৪ হাজার ৯৪৪ হেক্টর, সুমন স্বর্ণা ২ হাজার ৩৫৫ হেক্টর, ব্রি-৪৯ ধান ১ হাজার ৩১১ হেক্টরসহ অন্যান্য সব জাতের মোট ২৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। বিপিএইচ এবং ব্লুাস্ট রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রায় ৬০ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ধান কাটা পর্যন্ত এভাবে পরামর্শ অব্যাহত রাখতে পারলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj