পেঁয়াজ সংকট কোন পথে?

সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

মন্ত্রী আশ্বাস দিলেন পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে। দেরি না করে গেলাম বাজারে। চড়া দামের কারণে কয়েকদিন পেঁয়াজ কেনা হয় না। কী হয় পেঁয়াজ না খেলে! তবে এখন দাম নিয়ন্ত্রণের কথা শুনে মনে হলো, আজ তাহলে ছেলের পেঁয়াজু খাওয়ার বায়না পূরণ করা যাবে। কিন্তু একি বাজারে গিয়ে দেখি, দোকানি প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম হাঁকছে ২৫০ টাকা। এর নাম দাম নিয়ন্ত্রণ!

প্রায় দুই মাস ধরে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা চলছে। সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর থেকে আকস্মিকভাবে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হয়। আকাশে ওঠা দাম আর মাটিতে নামছে না। আর কত বাড়বে পেঁয়াজের দাম- এ প্রশ্ন এখন সবার। বেশ কিছুদিন থেকে কমছেই না নিত্য ব্যবহার্য এ পণ্যটির বাজারমূল্য। ভোগান্তিতে আছে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো। রাস্তাঘাট, দোকানে, অফিস, আদালতে সবার আলোচনার বিষয় একই হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পেঁয়াজ’। ছোট ছোট দোকানি যারা শিঙ্গাড়া, সমুচা বিক্রি করে সংসার চালায়, পেঁয়াজের এত দামে তাদেরও মাথায় হাত! এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন পেঁয়াজের দাম নাকি সহজে কমবে না। তারা বলেছেন ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ছাড়াও দেশি পেঁয়াজের মজুদ কমে যাওয়ায় আরো কিছুদিন দাম বাড়তে থাকবে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আগে ভারত ছাড়াও মিসর থেকে পেঁয়াজ আসত এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। মিয়ানমার থেকে সামান্য পেঁয়াজ এলেও আমাদের দেশে ভালো সংরক্ষণাগার না থাকায় তার প্রায় ৩০ শতাংশ পেঁয়াজই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আর দেশি পেঁয়াজ কিছু স্টকে আছে। ব্যবসায়ীরা আরো বলেছেন দেশে নাকি শুধু আলুর সংরক্ষণাগার আছে, পেঁয়াজের ভালো কোনো সংরক্ষণাগার নেই। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নেই কেন? তাহলে কি প্রতি বছর পেঁয়াজ পচনের খেসারত হিসেবে গরিবের পকেট খালি হবে?

কিছু কিছু ব্যবসায়ী আশ্বাস দিয়েছেন জানুয়ারির দিকে নতুন পেঁয়াজ এলে পেঁয়াজের দাম কমে যেতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও দাম এতটা বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে বলে বলেছে। তাহলে পেঁয়াজ সংকটের কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয় কাকে দায়ী বলে মনে করছে। তবে কেন পেঁয়াজ সংকট সমাধান করছে না? বাণিজ্যমন্ত্রী পেঁয়াজের ঘাটতির তথ্য আগে থেকে জানার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন ভারত যদি পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ না করত তাহলে দামটা এ পর্যায়ে যেত না। তিনি আরো বলেছেন বাজারে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার কথা না। তাহলে কি মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন? তাহলে পেঁয়াজ আমদানিসহ বাজারদরে বাণিজ্যমন্ত্রীর নজরদারি নেই কেন? কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত বছর থেকে এ পর্যন্ত যে পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে আছে তা চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। তাহলে এমন লাগামহীনভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখি না।

পরিশেষে, দেশের মানুষ পেঁয়াজ সংকটের স্থায়ী একটি সমাধান চায়। সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিন্তা করে দেশে কীভাবে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দেয়া জরুরি এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণে উৎকৃষ্ট সংরক্ষণাগার তৈরি করে দেশের মানুষের চাহিদামতো পেঁয়াজ জোগান দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই আগামীতে পেঁয়াজ নিয়ে সব সমাচার বন্ধ হবে আশা করছি।

মাহফুজা অনন্যা

কবি ও শিক্ষক, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মো. বিল্লাল হোসেন

পথ চলতে ফোন নয়

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

অর্থনৈতিক মুক্তির পথে বাংলাদেশ

Bhorerkagoj