সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি কমছে পেঁয়াজের দাম

সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে কার্গো বিমানে আসছে বিদেশ থেকেও >>

কাগজ প্রতিবেদক : সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ইতোমধ্যে মিসর ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দ্রুত পেঁয়াজের সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। এই পেঁয়াজ আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব কারণে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে ইতোমধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় ২০ টাকার মতো কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা করে। আর পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে খুচরা বাজারের তুলনায় প্রায় দিগুণ। রাজধানীর পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মিয়ানমারের পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৩০ টাকায়। মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। তবে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম এখনো ২৪০ টাকা কেজি। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২০০ থেকে ২১০ টাকা ও মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।

আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজের সংকট শুরুর পর পরই সরকার বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। ইতোমধ্যে এই পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। গত রবিবারও মিসর ও তুরস্কের প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসে। এ ছাড়া ত্বরিৎ পদক্ষেপ হিসেবে কার্গো বিমানে মঙ্গলবারের মধ্যেই পেঁয়াজ দেশে আনার বন্দোবস্ত করে সরকার। বাজারে এই পেঁয়াজের সরবরাহ শুরু হলে দাম আরো কমবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আর দেশি পেঁয়াজ আসায় সপ্তাহের শেষদিকে বাজার পরিস্থিতি আরো কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে জানান আমদানিকারকরা।

এদিকে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম এক সপ্তাহের মধ্যে না কমলে হস্তক্ষেপ করবেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আপনারা এক সপ্তাহ দেখেন। এর মধ্যে যদি পেঁয়াজের মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে আমরা হস্তক্ষেপ করব। গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত রিটের শুনানিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রিটকারীর উদ্দেশে এ মন্তব্য করেন। পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না এই মর্মে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয় রিট আবেদনে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয় এই রিটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমার এসোসিয়েশ অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে পারলে পেঁয়াজের দাম আরো কমবে। এতে চরম সংকট থেকে পরিত্রাণ পাবেন সাধারণ ভোক্তারা। প্রসঙ্গত, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর দেশের বাজারে পেঁয়াজের চরম সংকট তৈরি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দফায় দফায় দাম বেড়ে রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখন সব থেকে বেশি দামের পণ্যের তালিকায় সবার ওপরে স্থান করে নিয়েছে পেঁয়াজ। সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফায় কেজিতে ১২০ টাকা বেড়ে গত শনিবারও দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হয় ২৬০ টাকায়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj