চট্টগ্রামে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ : বিপর্যয় এড়াতে সচেতনতা বাড়াতে হবে

সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা এখন অহরহই ঘটছে এবং এতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গতকাল সকালে চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় গ্যাসের পাইপলাইনে বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ভবনের একাংশের দেয়াল ধসে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, দুজন নারী ও একজন শিশু। আহত হয়েছেন ১৫ জন। ফায়ার সার্ভিস বলছে, গ্যাসলাইন পুরনো ছিল। লিকেজ, নাশকতা, কেমিক্যাল আছে কিনা তদন্ত করে দেখছে। বিস্ফোরণের ঘটনাটি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ এবং দুঃখজনক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্যাস বিস্ফোরণের কারণ গ্যাসলাইনে লিকেজ থাকা। সাধারণত দেখা যায়, বাড়িওয়ালারা গ্যাসলাইনের লিকেজ বা ত্রুটির ব্যাপারে সচেতন থাকেন না। আবার যারা ব্যবহারকারী তাদেরও অসতর্কতা রয়েছে। আমরা সেই ব্যাপারে ক্রমাগত অবহেলা প্রদর্শন করে আসছি। গ্যাসের পুরনো পাইপলাইনে ক্ষয়, পুরনো কিংবা নতুন পাইপলাইনে ময়লা-আবর্জনা জমে লিকেজ-ছিদ্র ইত্যাদি তৈরি হওয়া, ওয়াসাসহ নানা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংস্কার-উন্নয়ন কাজের সময় পাইপ ফেটে যাওয়া কিংবা পাইপের সংযোগ দুর্বল ও ঢিলা হয়ে যাওয়ার কারণেও এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার গ্যাস বিতরণ লাইন রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অযতœ-অবহেলার কারণেও নাগরিকদের জন্য তা বিপদ ডেকে আনছে। কেজিডিসিএলের বিভিন্ন ভিজিল্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে অবৈধভাবে রাইজার স্থানান্তর ও ১ ইঞ্চি সার্ভিস লাইন স্থাপনের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। নিজ উদ্যোগে রাইজার স্থানান্তর, নকশাবহির্ভূতভাবে ভিন্ন আঙিনায় গ্যাস সরবরাহ, অননুমোদিত সরঞ্জাম এবং আবাসিক থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গ্যাস ব্যবহারের দায়ে বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে দণ্ডও দেয়া হয়েছে। এরপরও অবৈধ সংযোগের প্রবণতা কমেনি। চট্টগ্রামের ঘটনা গ্যাসলাইন লিকেজের বিষয়টি গণমাধ্যমে জোরালোভাবে সামনে এসেছে। এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্ট গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ দুর্ঘটনায় দায় এড়াতে পারে না। গ্যাস বিস্ফোরিত হয়ে যে হতাহতের ঘটনা ঘটে তা এক কথায় মারাত্মক। গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা এতই আকস্মিকভাবে ঘটে যে, তা থেকে সাধারণত পরিত্রাণ মেলে না। আর অগ্নিদগ্ধে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধকেই গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ রোধ করতে হলে বাড়ির মালিক, বসবাসকারী, গ্যাস বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ সব পক্ষেরই দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা দরকার। বাড়ির মালিকদের অবশ্যই উচিত তার বাড়ির গ্যাস সংযোগ নিরাপদ আছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করানো, তাকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা আশা করি, গ্যাস বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj