পেঁয়াজের দামে লাগাম কে ধরবে?

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯

বিশ্ববাজারে এখন সবচেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে গত দুদিনে দাম বেড়েছে হু হু করে। ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম। চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। চরম অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশের বাজার। অতি মুনাফালোভী পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার পেঁয়াজের দাম সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গত চার মাস ধরে পেঁয়াজ সংকট চলছে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর থেকেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে। পাইকারিতেই ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে তা ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার চেয়ে আমদানি কম হওয়ায় পেঁয়াজের বাজারের এ অস্থিরতা বলে জানান আমদানিকারকরা। যদিও দেশে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে দৈনিক ছয় হাজার টনের মতো। স্থানীয় পেঁয়াজ উঠতে আরো প্রায় ১৫ দিন বাকি থাকায় চাহিদার সিংহভাগই পূরণ হওয়ার কথা আমদানির মাধ্যমে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী আমদানি না হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে পণ্যটির দাম। সরকারের পক্ষ থেকে বড় ব্যবসায়ীদের অনেক আগেই পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুরোধ করা হয়। আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। তাদের অসহযোগিতায় বাজারে এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে কারো কারসাজি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান সারা বছর অব্যাহত রাখা দরকার। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে হতদরিদ্র মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। কাজেই নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা দূর করার জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের আস্ফালন লক্ষণীয়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এ চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অনায়াসে অন্যায্যভাবে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার টিসিবির মাধ্যমে ট্রাকসেলে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব নেই। জরুরিভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা চলছে মিয়ানমার, চীন, মিসর ও তুরস্ক থেকে। আমরা মনে করি, বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কবে ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না। এর জন্য রাষ্ট্র-সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠা এবং পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের তফাৎসহ সার্বিক বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj