আয়কর মেলায় মিলছে সব ধরনের সেবা

শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : সময় পাল্টেছে। রাজস্ব বোর্ডও সক্রিয়। এক সময় রাজস্ব কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা অনেকটাই কমে গেছে। আর আয়কর মেলায় তো কথাই নেই। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই রিটার্ন জমা দিতে পারছেন করদাতারা। এমনও অনেক করদাতা রয়েছেন যারা কর প্রদানের জন্য আয়কর মেলাকেই বেছে নেন। এতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আয়কর মেলা। যার কারণে ছুটির দিনে আয়কর মেলায় করদাতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কর প্রদানের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুরু সব ব্যবস্থাই রয়েছে। এবারের মেলায় নতুন আকর্ষণ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। বিকাশ, রকেট, শিওর ক্যাশসহ এসস সার্ভিসেও কর প্রদান করছেন করদাতারা। গতকাল শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ছুটির দিনে প্রথম প্রহরেই করদাতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। করদাতারা স্বাচ্ছন্দ্যে দাখিল করছেন রিটার্ন। স্বাভাবিক সময়ে আয়কর দিতে গেলে কাগজপত্রের জটিলতা, কর্মকর্তাদের কিছুটা অসহযোগিতা, বারবার যাওয়া-আসাসহ নানা ধরনের ঝামেলা থাকলেও আয়কর মেলায় কাগজপত্রের সেবা, কর্মকর্তাদের সহযোগিতা, ব্যাংক সুবিধাসহ সবধরনের সুবিধা একসঙ্গে মেলে। তাই আয়কর মেলাতেই আয়কর দিতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন করদাতারা। মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী আবু মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে জানান, আমি নিয়মিত আয়কর দিই। আজকে মেলায় আয়কর দিতে এসেছি। এখন ফরমটা পূরণ করে জমা দিয়ে দেব। গত ৮ বছর ধরে নিয়মিত আয়কর দিচ্ছি। মেলাতে আয়কর দিতে কিছুটা সুবিধা। এখানে একসঙ্গে সবগুলো সেবা পাওয়া যায়। যেমন ব্যাংক, টাকা জমা দেয়া কিংবা কারো কোনো সহযোগিতা লাগলে পাওয়া যায়। ফটোকপিও পাওয়া যায়। তাই মেলাতেই আয়কর দিই। আরেক চাকরিজীবী আ হ ম হোসেন বলেন, আমি রিটার্ন জমা দিতে এসেছি। সবাই এখানে সহযোগিতা করছেন। এনবিআরের পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা আমাকে বেশ সহযোগিতা করেছেন। রিটার্ন ফরম পূরণের সময় তারা বেশ সহযোগিতা করেছেন। তবে এবার মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যুক্ত হওয়ায় অনেকের টাকা দেয়ার ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না বলে জানান মেলায় আসা একাধিক করদাতা। মেলা সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে আয়কর দিতে হলে এনবিআরের নির্দিষ্ট ফর্মে অনলাইন অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রার অ্যাপ্লিক্যাশন করতে হবে। এবারের মেলায় হেল্প ডেস্ক, রিটার্ন বুথ ও ই-পেমেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে ই-টিআইএন জোন ও রিটার্ন পূরণের স্থান। মেলা প্রাঙ্গণে এবার ৩৯টি হেল্প ডেস্ক করা হয়ছে, যা গত বছর ছিল ৩৩টি। রিটার্ন বুথ রাখা হয়েছে ৫২টি, যা গত বছর ছিল ৪৯টি। আর ই-পেমেন্ট বুথ করা হয়েছে ১৪টি, যা গতবছর ছিল একটি।

বুথের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এবার বাড়ানো হয়েছে সেবা দানের স্থানও। ১১২৫ বর্গফুট এলাকাজুড়ে করা হয়েছে ই-টিআইএন জোন, যা গত বছর ছিল ১০০০ বর্গফুটের ওপর। ৭০০০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে করা হয়েছে রিটার্ন পূরণের স্থান, যা গতবছর ছিল ২৫০০ বর্গফুট। বিশাল এই মেলা প্রাঙ্গণে করদাতাদের রিটার্ন জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে অফিসার্স ক্লাবের মূল ভবনে। এই ভবনের নিচতলায় রয়েছে বৃহৎ করদাতা ইউনিট, কেন্দ্রীয় জরিপ অঞ্চল, প্রতিবন্ধী করদাতা, সিনিয়র সিটিজেন করদাতা, মুক্তিযোদ্ধা করদাতাদের কর দেয়ার ব্যবস্থা। এর মধ্যে বৃহৎ করদাতা ইউনিট আছে ১ ও ২ নম্বর বুথে। ৩ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় জরিপ অঞ্চল, ৪ নম্বরে প্রতিবন্ধী করদাতা, ৫ নম্বরে সিনিয়র সিটিজেন করদাতা এবং ৬ নম্বর বুথ মুক্তিযোদ্ধা করদাতাদের জন্য।

লাইনের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। অন্যদিকে এনবিআরের ই-পেমেন্ট পোর্টালে গিয়ে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে আয়কর পরিশোধ সেবা নিতে পারবেন গ্রাহকরা। ব্র্যাক ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ অ্যাপের হোম স্ক্রিনের সাজেশন বক্সে এনবিআর লোগোতে ক্লিক করলেই গ্রাহক সরাসরি আয়কর পেমেন্ট গেটওয়ে পেজ চলে আসবে। আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিকাশের মাধ্যমে আয়কর পরিশোধ করা যাবে। অনলাইন আয়কর সেবা প্রদানে যারা নিবন্ধন করেছে বা নিবন্ধন করেনি উভয় গ্রাহকই এখান থেকে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন। যাদের রেজিস্ট্রেশন করা আছে তারা সাইন-ইন করে ‘পে ইনকাম ট্যাক্স’ থেকে ‘ট্যাক্স’ অপশন চেপে পরবর্তী পাতায় টিআইএন নম্বর দিলে পাশেই ‘ভেরিফাই টিআইএন’ দেখতে পাবেন। এ ছাড়া ভেরিফিকেশন হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাবমিট বাটন চাপলে ‘পেমেন্ট মেথড’ পাওয়া যাবে। এখানে মোবাইল পেমেন্ট অপশন থেকে বিকাশ সিলেক্ট করে অ্যাকাউন্ট, ওটিপি কোড ও পিন নম্বর দিলেই আয়কর প্রদানের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে এবং চলে আসবে কনফরমেশন মেসেজ। যাদের রেজিস্ট্রেশন করা নেই, তারা ‘আনরেজিস্টার্ড’ অপশন সিলেক্ট করে একই প্রক্রিয়ায় আয়কর পরিশোধ করতে পারবে। বিকাশে আয়কর পরিশোধে গ্রাহকদের জন্য ১.১ শতাংশ চার্জ প্রযোজ্য হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj