ঘূর্ণিঝড়ের ১০৭ বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারে ২০১৯ সালে

শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : বর্ষার আগে ও পরে ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া নি¤œচাপগুলোর অধিকাংশই পরিণত হয় ঘূর্ণিঝড়ে। এই এলাকায় তৈরি হওয়া নি¤œচাপগুলোর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকে ৮০ শতাংশ। মূলত বর্ষার আগে অর্থাৎ এপ্রিল ও মে মাস এবং বর্ষার পরে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সব থেকে বেশি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে দেখা যায় এই তিন সাগরের এলাকায়।

বর্ষাকালে কম ঘূর্ণিঝড় হয় : নি¤œচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার এই হার কমে যায় বর্ষাকালে। এমনকি জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার এই হার মাত্র ১০ শতাংশ। এই নি¤œচাপগুলোর আবার অনেকরকম ভাগ থাকে। বিভিন্ন স্তরে এগুলি পরিণত হয় ঘূর্ণিঝড়ে। নি¤œচাপ থেকে তৈরি হয় গভীর নি¤œচাপ। এর পরের ধাপেই এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। এরপর শক্তি বাড়তে বাড়তে এটি হয়ে ওঠে শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।

ঘূর্ণিঝড়ের ৫টি আলাদা ক্যাটাগরি : বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার ছুঁলে সেটিকে একটি নাম দেয়া হয়। যেমন বুলবুলের নামকরণ হয়েছিল। এরপর এটা ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার থেকে ১১৭ কিলোমিটার বেগের ব্যবধানে থাকলে সেটিকে একটি ঝড় বলা হয়। বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটারের বেশি হয়, তখন এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। বাতাসের তীব্রতা এবং ধ্বংসক্ষমতা অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের আবার এক থেকে পাঁচ মাত্রার ৫টি আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়।

বঙ্গোপসাগর থেকে আরব সাগরে বেশি ঘূর্ণিঝড় এই বছর : সাধারণত বঙ্গোপসাগরে আরব সাগর থেকে বেশি নি¤œচাপ তৈরি হয়। যদিও এই বছর উল্লেখযোগ্য ভাবে সংখ্যাটা আরব সাগরের ক্ষেত্রে বেশি। এই কয়েকদিন আগেই কিয়ার ও মহা তৈরি হয় আরব সাগরে। এর আগে বঙ্গোপসাগরে বর্ষার আগে তৈরি হয় ফণী ও পাবুক। আর কয়েকদিন আগেই তাণ্ডব ছড়ায় বুলবুল।

১০৭ বছরের রেকর্ড ভাঙার মুখে : এদিকে শেষবার আরব সাগরে একই বছরে চারটে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল ১৯০২ সালে। এবং ২০১৯-এর দেড় মাস বাকি থাকতেই সেই সংখ্যা ছোঁয়া হয়ে গিয়েছে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj