চিনুয়া আচেবে

শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

চিনুয়া আচেবে (জন্ম : ১৬ নভেম্বর, ১৯৩০; মৃত্যু: ২১ মার্চ, ২০১৩) নাইজেরিয়ার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও আফ্রিকার আধুনিক সাহিত্যের জনক। ১৯৯০ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন চিনুয়া। এরপর তিনি প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় কোনো বই লেখেননি। তার পরবর্তী বছরগুলো বেশিরভাগই কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে। চাকরি জীবনে তিনি নাইজেরিয়ার ব্রডকাস্ট সার্ভিসে কাজ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তার লেখালেখি শুরু হয়। লেখক হিসেবে চিনুয়া আচেবে আফ্রিকা এবং পশ্চিমের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার কাজকে মানদণ্ড ধরেই প্রজন্মান্তরে আফ্রিকান লেখকদের কাজের মূল্যায়ন হয়ে আসছে। চিনুয়া ২০টিরও বেশি লেখা লিখেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি লেখাই রাজনীতিবিদ এবং নাইজেরিয়ার নেতাদের নেতৃত্বে ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে লেখা। তার বইগুলোতে দেশটির ঔপনিবেশিক সময়ে ইবো সমাজের ঐতিহ্য, দেশটির সংস্কৃতিতে খ্রিস্টানদের আগ্রাসন এবং আফ্রিকা ও পশ্চিমাদের মধ্যকার প্রথাগত দ্ব›েদ্বর বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে এসেছে। এ ছাড়া তিনি অনেক ছোট গল্প, শিশু সাহিত্য এবং প্রবন্ধও রচনা করেছেন। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘থিংস ফল অ্যাপার্ট’-এর সুবাদে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন আচেবে। উপন্যাসটি অনুবাদ হয়েছে ৫০টিরও বেশি ভাষায়। তা ছাড়া বিশ্বজুড়ে উপন্যাসটির প্রায় ১ কোটি কপি বিক্রি হয়। তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘অ্যান্টহিলস অব দ্য সাভানা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালে। আফ্রিকার রাজনীতি ও পশ্চিমাদের চোখে আফ্রিকা যেভাবে চিত্রিত হয় সে প্রসঙ্গটি ঘুরেফিরে এসেছে চিনুয়া আচেবের রচনায়। আফ্রিকার অনেক লেখকের প্রেরণার উৎস তিনি। চিনুয়া আচেবের লেখা কারাগারের দেয়ালও ভেঙে দেয়- বলে মন্তব্য করেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। থিংস ফল অ্যাপার্ট, নো লংগার অ্যাট ইজ এবং অ্যারো অব গড এই তিন উপন্যাসকে এদের একই ঔপনিবেশিক পটভূমি এবং একই ধরনের বক্তব্যের জন্য বলা হয় ‘আফ্রিকান ট্রিলজি’। এই উপন্যাসত্রয়ীর শেষটিতে আচেবে তার শ্রেষ্ঠ শৈল্পিক দক্ষতায় ইগবো সমাজের জটিল মনস্তত্ত্ব, ইংরেজি সংস্কৃতি ও সনাতন ইগবো সংস্কৃতি সংঘাত এবং তার চেয়েও বেশি ইগবো সমাজের অভ্যন্তরীণ টানাপড়নের কথাই নিরাসক্ত, নির্মোহ ভঙ্গিতে ব্যক্ত করেন।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মো. বিল্লাল হোসেন

পথ চলতে ফোন নয়

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

অর্থনৈতিক মুক্তির পথে বাংলাদেশ

Bhorerkagoj