সংসদে প্রধানমন্ত্রী : দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলবে

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছন, একটি পরিবারে যদি একজন মাদকসেবী থাকে তা হলে সেই পারিবারটা ধ্বংস হয়ে যায়। ছেলেকে মাদকের অর্থ না দিলে বাবা-মাকে খুন করে। সন্তানরা কত ভয়ঙ্কর। একজন সন্ত্রাসী শুধু পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর নয়, সে দেশের জন্যও ক্ষতিকর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন সমাপ্তির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। এটা অব্যাহত থাকবে। এ সময় তিনি জানান, সেনাশাসন ব্যবস্থায় দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হয়। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এলিট শ্রেণি তৈরি করা হয়। দুর্নীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়। ’৭৫-এ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জিয়াউর রহমান নিজে দুর্নীতি করে, আবার দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেয়। অনেককে দুর্নীতি করতে সহায়তা করে। সমাজের প্রতি স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে দেয়া হয়। তখন থেকে সমাজে এত দুর্নীতি হয়েছে। তাই আমরা ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি বন্ধের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছি, এখনো তা চলমান। সে যে দলেই হোক দুর্নীতি করলে আমরা কাউকে ছাড়ব না।

বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ে আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। এক ধরনের শিক্ষক আছে, তারা দিনের পর দিন বছরের পর বছর আন্দোলন করেই যায়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তো কয়েকজন ভিসিকে আন্দোলন করে তাড়ানো হলো। তারা আবার এ আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহার করছে। বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। তারা সেশন জটে পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বারবার শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হোক তা আমি চাই না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন এটা আবার করার চেষ্টা করছে। তবে আমি বলেছি, যারা অভিযোগ আনছেন- তা সঠিক কিনা তার প্রমাণ দিতে হবে। আইনে কিন্তু রয়েছে মিথ্যে অভিযোগ দিলে তাদের শাস্তি পেতে হবে। আইন তার নিজের গতিতে চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমরা পৃথিবীর কোন দেশে পেঁয়াজ আছে সেখান থেকে পেঁয়াজ আনার ব্যবস্থা করেছি। অনেকে বলেছেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম অনেক কম। কিন্তু আমি জানি ভারতের একটি রাজ্য পেঁয়াজ অন্যত্র রপ্তানি বা বাইরে যেতে দিচ্ছে না, সেখানে দাম কম। কিন্তু ভারতের অন্য রাজ্যে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার মতো। তবে আমরা মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য এলসি খুলেছি। টিসিবির মাধ্যমে তা বিলি করব। আমরা ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খুলেছি, কিছু দিনের মধ্যে তা চলে আসবে। এটা এলে টিসিবির মাধ্যমে সারাদেশে বিক্রি করা হবে। খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে তিনি বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে, তারা ভেজাল দিচ্ছে। তবে আমরা ভেজাল বা নকলবিরোধী অভিযান চালাচ্ছি। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাম্প্রতিক ট্রেন দুর্ঘটনার বিষয়ে সরকার প্রধান বলেন, দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই। কুয়াশার জন্য গত পরশু কুমিল্লার কসবায় ত‚র্ণা ও উদয়নের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা তদন্ত করে দেখব এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা। গতকাল যে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটারও তদন্ত হবে। তিনি বলেন, বিএনপি আমলে রেলকে তুলে দেয়ার চেষ্টা করে। আমরা ক্ষমতায় এসে ট্রেন লাইনগুলো আবার চালু করি। আমি রেলমন্ত্রীকে বলেছি, যেসব পুরাতন লাইন রয়েছে সেগুলো মেরামতের জন্য ব্যবস্থা নিতে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj