আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে পণ্য ও সেবা ক্রয়ে কড়াকড়ি

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিদেশ থেকে কোনো পণ্য ও সেবা কিনতে হলে একটি নির্দিষ্ট ফর্মে তার বিবরণ উল্লেখ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহক এককভাবে কোনো পণ্য বা সেবামূল্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধের সুযোগ নিতে পারেন। কিন্তু অনলাইনে পণ্য কেনাকাটার নামে এই সুযোগের অপব্যবহার করছেন অনেকেই। নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবা ক্রয়ে এই ডলার ব্যবহার না করে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দেশের ডলার বিদেশে পাচার হচ্ছে। বিশেষভাবে অনলাইনে জুয়া খেলা, বৈদেশিক লেনদেন, বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনাবেচা, ক্রিপ্টো কারেন্সি ও লটারির টিকেট কেনার কাজে এই ডলার ব্যবহার করা হয় বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই পরিপ্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অবৈধ লেনদেন রোধে গ্রাহকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবার বৈধ কেনাকাটায় বিপরীতে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে ইস্যুকৃত ডলার ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশে উৎপাদিত কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয়ে এই ডলার ব্যবহার করা যাবে না। এ বিষয়টি কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষভাবে অবৈধ বিভিন্ন পেমেন্ট যেমন অনলাইনে জুয়া খেলা, বৈদেশিক লেনদেন, বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনাবেচা, ক্রিপ্টো কারেন্সি ও লটারির টিকেট কেনার কাজে এই কার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এতে বলা হয়, এখন থেকে গ্রাহকদের অনলাইন ট্রানজেকশন অথরাইজেশন ফর্ম বা ওটিএএফ পূরণ করে ব্যাংকগুলোতে জমা দিতে হবে।

এরপর ব্যাংক সেটি যাচাই-বাছাই করে কোনো অসঙ্গতি না পেলে গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডের ওই ডলার ব্যবহারের অনুমতি পাবে। ক্রয়কালীন লেনদেনের ক্ষেত্রে যদি কর বা শুল্ক প্রযোজ্য হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডধারী ব্যক্তিকে তা পরিশোধ করতে হবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj