বড় করদাতাদের কর প্রদানের মাধ্যমে আয়কর মেলা শুরু

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বড় বড় আয়করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আয়কর প্রদানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে দশম জাতীয় আয়কর মেলা। ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’ এ ¯েøাগানকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে এই মেলা। মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আয়কর দেয়া হয়। পাশাপাশি নিজের পরিবারের আয়কর দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ ছাড়া প্রথম দিনে টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোন (জিপি) ১৫০ কোটি ও ইসলামী ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেছে। এ ছাড়া সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনও ২৫ কোটি টাকার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে শুরু হয়েছে দশম আয়কর মেলা। সকাল থেকেই করদাতাদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত থাকলেও দুপুর দেড়টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। সপ্তাহব্যাপী এই মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। করদাতারা এই সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরই শীর্ষ পাঁচ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়। এ সময় গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল ফোলি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার কাছে ১৫০ টাকার আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কায়সার আলী ব্যাংকটির ১০০ কোটি টাকার আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে। এ সময় অর্থমন্ত্রী তার পরিবারের চার সদস্যের পক্ষ থেকে আয়কর রিটার্ন জমা দেন। তাদের সম্মিলিত ২১৩ কোটি টাকার সম্পদের বিপরীতে জমাকৃত আয়করের পরিমাণ সাত কোটি ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৬ টাকা। পরে তিনি ও এনবিআর চেয়ারম্যান সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকার আয়কর রিটার্ন জমা নেন। আয়কর রিটার্ন দাখিলের পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, কর দেয়া একটি আনন্দ ও উৎসবের বিষয়। আমরা সপরিবারে কর দিচ্ছি। আপনারা সবাইও এ উৎসবে সামিল হোন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার প্রকৃত সম্পদ ৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। করযোগ্য আয়ের অঙ্ক ২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আয়কর দিয়েছি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার ৮০ টাকা। আমার স্ত্রীর সম্পদের অঙ্ক ৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। করযোগ্য আয়ের অঙ্ক ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তিনি কর দিয়েছেন ৭১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ সালে আমি প্রথম ট্যাক্স দেই। সে সময় ৫৬০ পাকিস্তানি রুপি ট্যাক্স দিয়েছিলাম। ১৯৯৬-৯৭ সাল থেকে গত ২৪ বছরে আমি ও আমার পরিবার ৫১ কোটি ৭২ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯২ টাকা কর দিয়েছি। আর এ বছর দিলাম সাত কোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৫৬ টাকা। আমরা পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করছি। এজন্য সবাইকে ট্যাক্স দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, অনিয়ম অনেক কমেছে। সবাই যথাযথভাবে ট্যাক্স দিচ্ছে।

তবে ট্যাক্স নেয়ার ক্ষেত্রে যদি কোনো অফিসার খারাপ ব্যবহার বা অবৈধভাবে কিছু করার চেষ্টা করেন, তাহলে আমাকে অবহিত করবেন। আমি এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেব না। যিনি অনিয়ম করবেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাই সবাই ন্যায়ের পথে থেকে কাজ করুন।

এবার রাজধানীসহ সব বিভাগীয় শহরে সাতদিন, জেলা শহরগুলোয় ৪ দিন, ৪৮ উপজেলায় ২ দিন এবং ৮ উপজেলায় দিনব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করেছে এনবিআর। সব মিলিয়ে দেশের ১২০ স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আয়কর মেলা। মেলা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়া এবারের আয়কর মেলায় প্রথমবারের মতো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দেয়া যাচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারো করদাতাদের জন্য আয়কর মেলায় করবিবরণী থেকে শুরু করে কর পরিশোধের জন্য ব্যাংক ও বুথ রয়েছে। করদাতাকে শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। মেলায় নতুন করদাতারা ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতে পারবেন। এ ছাড়া ই-পেমেন্টের জন্য পৃথক বুথ থাকবে। প্রসঙ্গত, গত বছর আয়কর মেলায় ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৬ নাগরিক সেবা নেন। রিটার্ন জমা হয় ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৩টি। আর কর আদায় হয় ২ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৫ টাকা। নতুন নিবন্ধন নেন ৪৫ হাজার ৪৩৭ জন করদাতা।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj