ডায়াবেটিস ও মুখের রোগ

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

ডা. মো. ফারুক হোসেন

সারা বিশ্বে নভেম্বর মাসের ১৪ তারিখে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়ে থাকে। ২০১৯ সালের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের থিম বা বিষয়বস্তু .চজঙঞঊঈঞ ণঙটজ ঋঅগওখণ,

মানবদেহে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা সেল থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন কার্বোহাইড্রেট বা চিনি জাতীয় খাদ্যের বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে থাকে। কোনো কারণে বিটা সেলের কার্যকারিতা কমে গেলে বা অগ্ন্যাশয়ের কোনো রোগে ইনসুলিন নিঃসরণ কমে যায় বা একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন শর্করা বা চিনি জাতীয় খাদ্যের বিপাক ক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ক্রমান্বয়ে ডায়াবেটিস দেখা দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে মাড়ি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। টাইপ-১ এবং টাইপ-২ উভয় ধরনের ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে মাড়ির নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। তবে তুলনামূলকভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে মাড়ি রোগের বিভিন্ন জটিলতা বেশি দেখা যায়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে ডায়াবেটিস নেই এমন ব্যক্তির চেয়ে ডায়াবেটিক রোগীর দাঁত হারানোর সম্ভাবনা প্রায় পাঁচগুণ বেশি। ডায়াবেটিক রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় জীবাণু সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এসব কারণে মাড়ি রোগ সৃষ্টি হলে সেখানে পেরিওডন্টাল পকেট সৃষ্টি হয়। তারপর ধীরে ধীরে পেরিওডন্টাল পকেটে খাদ্যদ্রব্য জমা হয়ে মাড়ি ফুলে যেতে পারে। সেখান থেকে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে পেরিওডন্টাল লিগামেন্টগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এক সময় দেখা যায় দাঁত নড়তে শুরু করে। যাদের মাড়ি বা পেরিওডন্টাল রোগ থাকে তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। পেরিওডন্টাল রোগের কারণে লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীর মুখে শুকনো ভাব থাকে। মাঝে মাঝে স্যালাইভারি গø্যান্ড বা লালাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে যা সায়ালেসিস নামে পরিচিত। এটি সাধারণত স্বয়ংক্রিয় নিউরোপ্যাথির কারণে হতে পারে।

জিহ্বার প্রদাহ দেখা যেতে পারে। ফলে খাবারের স্বাদ গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করার সময় জিহ্বায় অনেক সময় ঝাল ঝাল অনুভব হতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ যদি দুর্বল হয় তাহলে ওরাল ক্যান্ডিডোসিসের সৃষ্টি হতে পারে। ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের ক্ষেত্রে দন্তচিকিৎসা বিদ্যায় সাধারণত তেমন সমস্যা হয় না মুখের শুষ্কতা ছাড়া। ক্ষণস্থায়ী ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস হেড ইনজুরির জটিলতা হিসেবে দেখা যায়।

ডায়াবেটিক রোগদের ক্ষেত্রে মাড়ি রোগে সামান্য আঘাতে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হয়। মাড়ি স্পঞ্জের মতো নরম তুলতুলে হয়ে যায়। দাঁত নড়ে যেতে পারে। দাঁত শিরশির করা ছাড়াও মাড়ি থেকে পুঁজ বের হতে পারে। মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়া ছাড়াও খাবার গ্রহণের সময় দাঁতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

ডায়াবেটিস হলে কোনোভাবেই মাড়ির রোগকে অবহেলা করা যাবে না। আপনার দাঁতে যদি পাথর থাকে তাহলে অবশ্যই স্কেলিং করিয়ে নিতে হবে। তাছাড়া নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা ছাড়া মাঝে মাঝে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। তবে সঠিক মাউথওয়াশ ব্যবহার না করলে অনেক সময় মুখে আলসার বা ঘা থাকলে তা সহজে ভালো হয় না।

ডায়াবেটিসের কারণে মুখের বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ সাবধানে প্রয়োগ করতে হবে। মুখের অভ্যন্তরে কোনো আলসার দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা ঠিক নয়। ডায়াবেটিসের কারণে শুষ্ক মুখ হলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দন্তক্ষয় অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। সর্বোপরি যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে জীবনযাপন করতে হবে।

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার-বর্ণমালা সড়ক,

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj