আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

গতকাল পালিত হয়েছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। ১৯৯১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে সিদ্ধান্ত হয় যে প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর তারিখে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হবে। ১৪ নভেম্বর তারিখে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালনের আরো একটি কারণ হলো এই দিনের ফ্রেডরিক ব্যান্টিং জন্মগ্রহণ করেন। যিনি তার সহযোগী চার্লস বেল্টকে সঙ্গে নিয়ে অধ্যাপক ম্যাকয়িডের গবেষণাগারে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণের মহৌষধ ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।

ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি মহামারি রোগ হিসেবে চিহ্নিত এবং এই রোগ সারা জীবনের রোগ। নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা যায় কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের জটিলতা অনেক। এ বছরের স্লোগান ছিল- ‘আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি’। এ প্রতিপাদ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) এবার পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস থেকে বাঁচাতে এ বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ডায়াবেটিসকে মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। সুতরাং প্রতিদিন যেমন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীদের নানা ধরনের জটিলতা। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বর্তমানে বিশ্বে ডায়াবেটিসকে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন তা হচ্ছে- দৈনন্দিন জীবনে আমাদের শারীরিক সক্রিয়তা কম এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ না করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বংশগত কারণ ছাড়াও নগরায়ণ ও পরিবর্তিত জীবনধারণের কারণেই ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের প্রায় অর্ধেক পরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। এমনকি অপরিকল্পিত গর্ভধারণের কারণে শিশু অপুষ্টির শিকার হলে এবং সেই শিশু পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর অতিরিক্ত ওজন হলে তার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি থাকে। বর্তমানে নগরায়নের ফলে পরিবর্তিত জীবনযাপনের কারণে সারা বিশে^ই ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তবে বৃদ্ধির এই হার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশে বেশি। পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রায় ৮৩০ জন মহিলা গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিরোধযোগ্য জটিলতায় মারা যান। এদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ মায়ের মৃত্যু ঘটে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই।

ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে- কায়িক পরিশ্রম না করা; মোটা বা স্থ‚লকায় হয়ে যাওয়া; অতিমাত্রায় ফাস্টফুড খাওয়া ও কোমল পানীয় (সফট ড্রিংকস) পান করা; অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকা; ধূমপান করা ও তামাক খাওয়া; গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা; যাদের বাবা-মা অথবা রক্ত সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে এবং যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কাজেই ডায়াবেটিস সম্বন্ধে তাদের অধিকতর সতর্ক থাকা দরকার।

৫০ শতাংশের বেশি টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধযোগ্য। আজ থেকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করুন কারণ অঙ্গহানি, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস। সামান্য উদ্যোগই রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে। প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগী যদি তিনটি বিষয়- পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এবং রক্ত পরীক্ষা ও ব্যায়াম এগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়মমতো প্রতিদিন মেনে চলেন তাহলে তারা অবশ্যই স্বাভাবিকের কাছাকাছি, সামাজিকভাবে উপযোগী, সৃজনশীল কাজে সক্ষম ও সম্মানজনক জীবন নির্বাহ করতে পারবেন।

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী
সাম্মানিক উপদেষ্টা, বারডেম হাসপাতাল।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মো. বিল্লাল হোসেন

পথ চলতে ফোন নয়

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

অর্থনৈতিক মুক্তির পথে বাংলাদেশ

Bhorerkagoj