বিজয় দিবসে বিতর্কিত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মাপ ছাড়া কোনো পতাকা ব্যবহার করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন বিজয় দিবস উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকের পর তিনি এসব কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মাপ ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে। জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মাপ ছাড়া কোনো পতাকা ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া মলিন, ছেড়া, রং চটা পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। শুধুমাত্র ১৬ ডিসেম্বর যে কেউ পতাকা উত্তোলন করতে পারবেন। পরদিন পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পতাকা উত্তোলন করে থাকেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। এ বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ‘বিজয় দিবসে রাজধানীসহ সারাদেশে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, ক‚টনীতিকদের বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্মৃতিসৌধে আনা-নেয়া করা হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা ও পরিস্থিতি এড়াতে সাভার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকাটিও সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। যেন কোনো নাশকতা কেউ ঘটাতে না পারে। ঢাকা থেকে সাভার পর্যন্ত কোনো তোরণ করতে দেয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যালির আয়োজন করে। এসব অনুষ্ঠানের সাত দিন আগেই সংশ্লিষ্ট থানা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা দেয়া হবে। ৪১১টি স্থানে ফায়ার সার্ভিস এলার্ট থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স থাকবে স্মৃতিসৌধসহ গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বিজয় দিবসের র‌্যালি, প্যারেডসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য বিভিন্ন স্থানে এলইডি স্ক্রিন বসানো হবে, যেন সাধারণ মানুষ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে। বিজয় দিবসে জেলখানা, হাসপাতাল, এতিমখানায় উন্নত খাবার পরিবেশন করা হবে।

তিনি বলেন, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে কিছু দিন আগে থেকেই মানুষ আলোকসজ্জা করে থাকে। কিন্তু শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকাসহ সারাদেশে কোথাও কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না।

সড়কপথে যান চলাচল সচল রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে পুলিশের আইজিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj