নুহাশ পল্লীতে কবরে পরিবারের শ্রদ্ধা নিবেদন

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

এম নজরুল ইসলাম, গাজীপুর থেকে : নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নুহাশ পল্লীতে গতকাল বুধবার জনপ্রিয় লেখক, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ দিনটি উদযাপন করেছেন হুমায়ূনের পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে নুহাশ পল্লীর সব স্থাপনায় মোমবাতি প্রজ্বালন করার মধ্য দিয়ে নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমদের জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বুধবার সকাল থেকেই আসতে থাকেন হুমায়ূন ভক্তরা। হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া নুহাশ পল্লীতে এবারের জন্মদিনে দিবসটি পালন উপলক্ষে লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে সবাইকে নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

সকালে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তাদের দুই ছেলে নিশাদ ও নিনিতসহ স্বজন ও ভক্তদের নিয়ে নুহাশ পল্লীতে লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। পরে সবাইকে নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদ জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে এই জাদুঘরের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। আমি যেহেতু স্থপতি তাই আমি নিজে একটি ডিজাইন করেছি। সবার সম্মতি পেলে যে কোনো সময় এ কাজ শুরু করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন আহমেদ ক্যান্সার হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দুর্ভাগ্যবান যে, আমি এত বড় দায়িত্ব একা নিতে পারছি না। একটু একটু করে আগানোর চেষ্টা করছি, ছোট কাঁধে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি, ক্যান্সার হাসপাতালটি আসলে আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ সময় তিনি বলেন, আমি বলছি না ক্যান্সার হাসপাতাল আর্থিক কারণে হচ্ছে না। এটার উদ্যোগটা নিলে একটু একটু করে অর্থ সংকুলান হয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। উদ্যোগটা নেয়া আসলে বড় ব্যাপার, যেটা আমি একা নিতে পারছি না। হুমায়ূন আহমেদ যে ক্যান্সার হাসপাতাল করতে চেয়েছিলেন, সে স্বপ্নটা অনেক বড়, পরিবারের সবাইকে আসলে এক হয়ে এটা শুরু করতে হবে। আর উদ্যোগটা নিতে হবে। আমি হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে রেখেছি, পরিবারের সবার সম্মতির অপেক্ষা করছি। আশা করছি শিগগিরই আমরা সম্মতি পাব। সবার সম্মতি পাওয়া গেলে ক্যান্সার হাসপাতাল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সবার সম্মতি ছাড়া এটা বাস্তবায়ন সম্ভব না।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত হুমায়ূন ভক্তরা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন লেখকদের মধ্যে একটি নক্ষত্র। এ নক্ষত্রের আলোয় উদ্ভাসিত হোক বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ। তিনি না থেকেও আমাদের মাঝে রয়েছেন। সারা দেশেই রয়েছে তার অসংখ্য ভক্ত। তাদের কেউ কেউ এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, শুধু আজকের দিনে নয়, ভক্তরা হুমায়ূনকে সারা বছরই স্মরণ করেন।

ভক্তরা মনে করেন, হুমায়ূন আহমেদ তার সৃষ্টির মধ্যে, প্রকৃতি, জোছনা ও বৃষ্টির মধ্যে ছিলেন, আছেন ও বেঁচে থাকবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মারা যান। গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

ক্যাপশন : গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে গতকাল লেখক, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন পালন করা হয়। কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করেন হুমায়ূনের পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা- ভোরের কাগজ

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj