প্রাণের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের নবম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। খুলনা শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে একশত ছয় একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। ১৯৭৪ সালে কুদরত-ই-খুদা কমিশনের প্রতিবেদনে খুলনা বিভাগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের গুরুত্ব প্রথম উত্থাপিত হয়। ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে সরকার খুলনায় প্রথম একটি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু জনসাধারনের দাবি ওঠে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। ১৯৮৫ সালে সরকার দুটি কমিটি গঠন করেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী কমিটি (শিক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য আর মাহবুবুজ্জামান কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান নির্ধারণের জন্য। দুই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তি করে ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় এবং সে বছরই এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। এরপর জাতীয় সংসদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯০ পাস হয়।

১৯৯১ সালে প্রফেসর ড. গোলাম রহমানকে প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত করা হয় এবং একই বছর ৩১ আগষ্ট ৪টি বিভাগে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি দোতলা ভবনে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। বিভাগুলো হলো বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা (বিপ্রপ্র) স্কুলের অধীন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল, স্থাপত্য এবং নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন এবং ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের অধীন ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিন (পরবর্তীকালে ব্যবসায় প্রশাসন)। ১৯৯২ সালে জীব বিজ্ঞান স্কুলের অধীন ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি এবং মেরিন বায়োলজি (পরবর্তীকালে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি), ১৯৯৫ সালে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এগ্রোটেকনোলজি, ১৯৯৬ সালে পরিবেশ বিজ্ঞান এবং ১৯৯৮ সালে ফার্মেসি ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনসমূহ খোলা হয়।

বিপ্রপ্র স্কুলের অধীন ১৯৯৭ সালে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৯৯৮ সালে গণিত এবং ২০০৯ সালে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনসমূহ খোলা হয়। ১৯৯৯ সালে কলা ও মানবিক স্কুলের অধীন ইংরেজি ডিসিপ্লিন এবং সমাজ বিজ্ঞান স্কুলের অধীন অর্থনীতি ডিসিপ্লিন এবং ২০০৩ সালে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন চালু করা হয়। ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের অধীন স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আওতায় এমবিএ ও ইএমবিএ, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ প্রোগ্রামের আওতায় বিবিএ টিউটোরিয়াল সেন্টার এবং ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে। এ ছাড়াও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের আওতায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম এবং ইকোনমিক্স ডিসিপ্লিনের আওতায় মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ কোর্স চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রদান করে আসছে। কম্পিউটার ও ইংরেজি কোর্স সব ডিসিপ্লিনের জন্য বাধ্যতামূলক। ২০০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার এবং সেন্টার ফর ইনটিগ্রেটেড স্টাডিজ অব দি সুন্দরবনস (সিআইএসএস) এবং ২০০৯ সালে ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসের কাজ শুরু করে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন উইমেন্স কলেজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। ১৯৯৭ সালের ১০ এপ্রিল প্রথম, ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় এবং ২০০৫ সালের ১৯ মার্চ তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালের ৯ মার্চ প্রথম সিনেট সভা এবং ২০০৭ সালের ৯ আগষ্ট দ্বিতীয় সিনেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুবির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল যুগোপযোগী এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা, দেশের স্থায়ী উন্নতির জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু আহরণ, সদ্ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বোচ্চ শিক্ষার মান বজায় রাখা, মৌলিক ও ব্যবহারিক গবেষণা পরিচালনা করা এবং বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের জন্য যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কম্পিউটার গবেষণাগার, আধুনিক স্থাপত্য নকশা প্রস্তুতের জন্য একাস্টিক অ্যান্ড লাইটিং গবেষণাগার, বায়োটেননোলজি গবেষণাগার ও টিস্যুজ কালচার গবেষণাগার রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিষ্টেম, ফটোগ্রামেট্রি অ্যান্ড রিমোট সেনসিং গবেষণাগার, খামার, নার্সারি, ফিল্ড অ্যান্ড ভিলেজ গবেষণাগার, সিসমোগ্রাফ মেশিন এবং কোস্টাল ফিশারিজ রিসার্চ স্টেশন। সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj