আট ঘণ্টা পর চরে আটকে পড়া লঞ্চের ৮০০ যাত্রী উদ্ধার

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক, বরিশাল : বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জের ভোলার চর সংলগ্ন মেঘনা নদীর চরে আটকে পড়া এমভি শাহরুখ-২ এর ৮০০ যাত্রীকে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এমভি পূবালী-১ নামে অন্য একটি লঞ্চে এম ভি শাহরুখ-২ এর যাত্রীদের তুলে দেয়া হয়। এরপর এমভি পূবালী-১ লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বরগুনা নৌবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি শাহরুখ-২। দিবাগত রাত ৩টার দিকে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জসংলগ্ন মেঘনা নদী অতিক্রমের সময় লঞ্চটি ভুল পথে যাওয়ায় ভোলার চরে আটকে যায়। এরপরই চালক ও লঞ্চের কর্মচারীরা গা ঢাকা দেন। সকাল হওয়ার পরও লঞ্চ কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায় যাত্রীরা খেপে উঠলে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে এমভি পূবালী-১ নামের অপর একটি লঞ্চ এসে যাত্রীদের উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে চরে আটকে পড়া লঞ্চটি নামানো যায়নি। বেলা ১টার দিকে শ্রমিক নিয়ে মাটি কেটে লঞ্চটি নামানোর উদ্যোগ নেয় মালিকপক্ষ।

যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, লঞ্চটি যখন চরে আটকা পড়ে, তখন চালকের আসনে ছিলেন মূল সুকানির সহকারী। তিনি লঞ্চটি কালীগঞ্জ চ্যানেল হয়ে চাঁদপুরের দিকে না গিয়ে পূর্ব দিকে ভোলার পথে নিয়ে যান। এরপর লঞ্চটি ভোলার চরে আটকা পড়ে। তবে লঞ্চের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু গভীর রাতের ঘটনা, তাই তখন চালকের আসনে কে ছিলেন, তা তিনি জানেন না।

এমভি শাহরুখ-২ লঞ্চের মালিক মো. মাসুম খান জানান, এমভি শাহরুখ-২ আটকে পড়ার খবর পেয়েই যাত্রীদের উদ্ধার করতে তার কোম্পানির এমভি পূবালী-১ লঞ্চ পাঠান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের নিয়ে ওই লঞ্চটি চাঁদপুর অতিক্রম করেছে। তিনি আরো বলেন, লঞ্চটি কীভাবে চরে আটকা পড়ল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে লঞ্চের মাস্টার ও সুকানির গাফিলতি ছিল কিনা তাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের গাফিলতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল অঞ্চলের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা সরকার বলেন, চালকের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের চালকের বিরুদ্ধে মেরিন আদালতে মামলা করা হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj