ত‚র্ণা-উদয়ন দুর্ঘটনা : রেলপথ নিরাপদ হবে কখন?

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু ও শতাধিক যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা মর্মান্তিক। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তুলনামূলক নিরাপদ বাহন হিসেবে বিবেচনা করে মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করতে আগ্রহী হয়। কিন্তু সেই ট্রেনে যদি একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে, তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে? রেলওয়ে স্টেশন সূত্র বলছে, ত‚র্ণা নিশীথা ঘটনার দিন রাত ২টা ৪৮ মিনিটে শশীদল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাত্রা করে। ট্রেনটিকে আউটারে থামার জন্য সংকেত দেয়া হয়। আর উদয়ন এক্সপ্রেস কসবা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করার পথে ট্রেনটিকে মেইন লাইন ছেড়ে ১ নম্বর লাইনে আসার সংকেত দেয়া হয়। উদয়নের ছয়টি বগি প্রধান লাইনে থাকতেই ত‚র্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ট্রেনটির মাঝামাঝি ঢুকে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে উদয়নের তিনটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালী-ঢাকা, নোয়াখালী-সিলেট রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পথে আটকে পড়া ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়। এ ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আমরা দেখতে চাই। চালকের ভুলেই এই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। চালক সিগন্যাল মানলে এমন দুর্ঘটনা থেকে মানুষ রক্ষা পেত। চালকের এমন গাফিলতি মানা যায় না। ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের বিষয়টি এখন সামনে আসছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আগের দুর্ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে অধিকাংশ সময়ে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে চালকের কারণে। পাশাপাশি গার্ড, স্টেশন মাস্টারসহ সংশ্লিষ্টদের ভুলের কারণও রয়েছে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চালানোর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। লাইনের সংস্কার সময়মতো করা হয় কিনা, সে নিয়ে কোনো জবাব মেলে না। লাইনে পাথর না থাকা, সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি, লাইন ক্ষয়, সিøপার নষ্ট, লাইন ও সিøপার সংযোগস্থলে লোহার হুক না থাকা ইত্যাকার নানা কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুর্ঘটনার দায় কোনোভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি। ঘটনাটিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া উচিত। ট্রেনের মতো এক গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে যেখানে চরম সতর্কতা প্রয়োজন, সেখানে এ ধরনের দায়িত্বহীনতার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেয়া প্রয়োজন। বিশ্বের সর্বত্র রেলওয়ে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ যান হিসেবে স্বীকৃত। আমাদের রেলপথ দ্রুতই তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলুক- এটাই প্রত্যাশা করছি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj