লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় ‘বাংলা বন্ড’

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হলো বাংলাদেশের প্রথম ‘টাকা ডিনমিনেটেড বন্ড’, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘বাংলা বন্ড’। বাংলা বন্ডের তালিকাভুক্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এর মধ্য দিয়ে আমাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে এক দীর্ঘ যাত্রার সূচনা হলো।

বিশ^ব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বলছে, তাদের চালু করা এই বন্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বাজার থেকে তোলা ৯ দশমিক ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৮০ কোটি টাকা) ব্যয় হবে প্রাণ গ্রুপের পরিচালন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের গল্প এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এই বন্ডের মাধ্যমে বিদেশ থেকে যে পাওয়া অর্থ পাওয়া যাবে, তা দেশের বেসরকারি খাতকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আইএফসি ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিনা স্টোয়েলকোভিচ, আইএফসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ট্রেজারার জন গ্যান্ডোলফ, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সিইও নিখিল রথী এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমও উপস্থিত ছিলেন।

এই বন্ডের তালিকাভুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আইএফসির সঙ্গে আমার অনেকগুলো মিটিং হয়েছে। সামনে আরো ৩০০ মিলিয়ন ডলার আসবে। তার মধ্যে এইটা প্রথম। এই বন্ডে কী রকম সাড়া পাওয়া যায় সেটা দেখে পরেরগুলো ছাড়া হবে।

তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমাদের দেশের জন্য একটি গৌরবের দিন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই চিন্তার আদলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা প্রথমবারের মতো লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে একটি বন্ড নিয়ে আসতে পরেছি। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে আরো বন্ড আনব।

তিনি বলেন, অনেকদিন আমরা এক জায়গায় আটকা ছিলাম। আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে কোনো ফাইন্যান্সিয়াল টুলস ছিল না। ছিল শুধু ব্যাংক ঋণ। ব্যাংকগুলোর ওপর আর চাপ বাড়াতে চাই না। বন্ড ফাইন্যান্সিং একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

বাংলা বন্ডের কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মর্যাদা বাড়বে মন্তব্য করে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সিইও নিখিল রথী বলেন, বাংলাদেশের টাকাকে আমরা লন্ডনে স্বাগত জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আইএফসিকে অভিনন্দন জানাচ্ছি পথিকৃৎ হিসেবে তাদের এই ভূমিকার জন্য।

বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প, উৎপাদন ও আর্থিক খাত এই বাংলা বন্ড থেকে উপকৃত হবে জানিয়ে আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিনা স্টোয়েলকোভিচ বলেন, সমৃদ্ধি অর্জনের পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রায় অংশীদার হিসেবে আমরা পাশে থাকতে চাই।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj