আইসিসি

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সর্বোচ্চ ক্রিকেট পরিচালনা সংস্থার নাম আইসিসি। ১৯০৯ সালের ১৫ জুন ইংল্যান্ডের লর্ডসে আইসিসির যাত্রা শুরু হয়। তখন এর নাম ছিল ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্স। প্রতিষ্ঠাকালীন এর সদস্য ছিল- ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুতে কেবলমাত্র কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহই যুক্ত হতে পারতো। পরবর্তীতে এতে যোগ দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আইসিসি’র বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০৪।

পূর্ণসদস্য রয়েছে ১২টি, যারা টেস্ট খেলুড়ে, ৯২টি সহযোগী সদস্য ও ৫৭টি স্বীকৃতপ্রাপ্ত সদস্য। প্রতিষ্ঠার শুরুতে লর্ডসে আইসিসির কার্যক্রম পরিচালিত হত। ২০০৫ সালের আগস্টে আইসিসি লন্ডনে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দুবাইয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

আইসিসি সদস্য দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ করে না এবং খেলাটির আইন প্রণয়ন করে না। মেরিলেবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব খেলাটির আইন প্রণয়ন করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল সাধারণত খেলার অবস্থা এবং আইসিসির বিধি-বিধানসমূহ তত্ত্বাবধান করে থাকে। আইসিসি ক্রিকেটের আইন-কানুন পরিবর্তন করতে পারে না। কেবলমাত্র এমসিসি ক্রিকেটের আইন-কানুনের পরিবর্তন সাধন করতে পারে।

যদিও বর্তমানে ক্রিকেটের বৈশ্বিক পরিচালনা পর্ষদে আলোচনা সাপেক্ষে পরিবর্তন সাধিত হয়। আইসিসির নিজস্ব কোড অব কন্ডাক্ট রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন সকল দল ও খেলোয়াড়দের মেনে চলতে হয়। যদি নিয়ম ভাঙ্গা হয় তবে আইসিসি তার জন্য নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করে।

আইসিসি ক্রিকেটের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে, যার মধ্যে ক্রিকেট বিশ্বকাপ অন্যতম। আইসিসি একই সাথে টেস্ট ক্রিকেট, একদিনের আন্তর্জাতিক টি-টায়েন্টি আন্তর্জাতিকের জন্য আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি নিয়োগ দেয়। আইসিসি, সংস্থার কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলে, যা আন্তর্জাতিক ম্যাচের পেশাদারি মান বজায় রাখে।

এ সংস্থার দুর্নীতি-দমন ইউনিট (আকসু) এর মাধ্যমে দুর্নীতি ও ম্যাচ-গড়াপেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আইসিসির আয়ের প্রধান উৎস হল- তাদের আয়োজন বিভিন্ন প্রতিযোগিতাসমূহ, বিশেষ করে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আইসিসি তাদের আয়ের একটি বড় অংশ সদস্যদেশগুলোর মাঝে বণ্টন করে দেয়।

আইসিসি দ্বি-পাক্ষিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো (টেস্ট ম্যাচ, একদিনের আন্তর্জাতিক, টি- টোয়েন্টি হতে কোন ধরনের আয় করে না, এসকল ম্যাচের স্বত্বের মালিকানা সদস্যদেশগুলোর এবং তাদের দ্বারাই পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি মুস্তফা কামাল ২০১৪ সালের ২৬ মে আইসিসির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে আইসিসি’র বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক ও অনিয়মতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালনার অভিযোগ উত্থাপন করে পদত্যাগ করেন তিনি।

:: খেলা ডেস্ক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj