ভাইরাল জগৎ ও তারুণ্য ভাবনা

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

বর্তমানে ভাইরাল শব্দটি মিডিয়া জগতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল বলতে কোনো ভিডিও বা ছবি যা অতিসংবেদনশীল তা মানুষ দ্রুত দেখে ও শেয়ারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়াকেই বোঝায়। ভাইরাল বিষয়াদি সমাজে খুব জোরালোভাবে সংক্রমিত হয়ে ভিন্ন মাত্রায় ধাবিত হতে পারে। এর দৃষ্টান্ত দেয়া যেতে পারে ছেলে ধরা গুজব। পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে এমন একটি অসমর্থনযোগ্য বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন গুজব বিস্তার হওয়ার পর অনেক অভিভাবকের মধ্যেই সন্তানকে নিয়ে ভয় সৃষ্টি হয়েছিল। রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেণু নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ ছাড়াও ছেলেধরা গুজবে আহত হয়েছিলেন শতাধিক মানুষ।

এত কিছুর পেছনে প্রসঙ্গ কথাটি হচ্ছে সমালোচনাবোধ ও এর বিষয়াদি। অন্যকে নিয়ে কট‚ক্তি করা। সমালোচনা নিঃসন্দেহে মানুষের আত্মবিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তবে সেটি অবশ্যই গঠনমূলক হওয়া চাই। এতে যেমন প্রতিবন্ধকতা দূর হয় তেমনি করে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে। একটি গঠনমূলক সমালোচনা একটি যৌক্তিক আন্দোলনের শুভ রচনা করতে পারে। যেমনটা দেখেছিলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খোন্দকার নাসির উদ্দিনকে ভাইস চ্যান্সেলর পদ থেকে অপসারণে একটি সফল আন্দোলন। প্রথমদিকে আন্দোলনটি শুধু ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক হওয়ায় তেমন অগ্রসর হয়নি। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপরে হামলার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হতে শুরু করে ঠিক তখনই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বিবেক নাড়া দিয়েছিল। তীব্র নিন্দা ও ভিসি অপসারণের দাবিতে দেশের আন্দোলন অভ্যন্তরীণ থেকে জাতীয় পর্যায়ে রূপান্তরিত হয়েছিল।

আবার বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা আনয়নে এই ভাইরাল প্রক্রিয়া কার্যকরী অবদান রাখতে পারে। ইতোমধ্যে তার নজির পেয়েছি ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনায়। জড়িতদের এত বেগবান শাস্তি দেয়ার নমুনা এ দেশে বিরল। সুতরাং কোনো যৌক্তিক ঘটনা অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে একটি আন্দোলন ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। সাধারণ মানুষ পেতে পারে তাদের ন্যায্য অধিকার। তাই কোনো ঘটনাকে ভাইরাল করার আগে অবশ্যই সে বিষয়ে খুঁটিনাটি জানতে হবে। ভাবতে হবে সেটি মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা পরবর্তীতে সমাজে কী রকম প্রভাব ফেলতে পারে। গঠনমূলক হোক সব ভাইরাল বিষয়াদি। তৈরি হোক সর্বত্র সুষ্ঠু সমাজ।

সাজ্জাদ হোসেন

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মো. বিল্লাল হোসেন

পথ চলতে ফোন নয়

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

অর্থনৈতিক মুক্তির পথে বাংলাদেশ

কামাল লোহানী

বিষম দইরার ঢেউ

সুধীর বরণ মাঝি

আমি ব্যথিত আপনি?

Bhorerkagoj