রূপপুরের বালিশকাণ্ড : তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ৭ জনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বালিশকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগে পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহাসহ আরো সাত প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য?্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া অন্যরা হলেন- রাজশাহী গণপূর্ত অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান, পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম, মো. রওশন আলী, রাজশাহী সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আহসানুল হক ও খোরশেদা ইয়াছরিবা।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, বালিশকাণ্ডে আজ মঙ্গলবার আরো সাত প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা হলেন- রাজশাহী গণপূর্ত অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন, শাহনাজ আক্তার, পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শফিউজ্জামান ও মো. রওশন আলী এবং রাজশাহী গণপূর্ত অঞ্চলের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমান। এ ছাড়া আগামীকাল বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হবেন- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শৌকত আকবর, উপপ্রকল্প পরিচালক মো. হাসিনুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব রহমান, মো. মেহেদী হাসান এবং পাবনা গণপূর্ত বিভাগের মো. রফিকুজ্জামান।

বালিশকাণ্ডসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে গত ১৭ অক্টোবর উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে দুদক। এরপর গত ৩ নভেম্বর প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবরসহ মোট ৩৩ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে চিঠি দেয় দুদক। প্রথম পর্যায়ে ৬ ও ৭ নভেম্বর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে ওএসডি) মাসুদুল আলমসহ ১৪ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এদিকে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন ভবনের জন্য আসবাবপত্র কেনা নিয়ে দুর্নীতির ঘটনায় গণপূর্তের প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য মিলছে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুদক সচিব বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যউপাত্ত যাচাই করে দেখা হচ্ছে। দালিলিক প্রমাণ মিললেই এ ঘটনায় মামলা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুর্নীতিবাজরা কোনোভাবেই পার পাবে না।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj