বেলাল চৌধুরী

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

বেলাল চৌধুরী (জন্ম : ১২ নভেম্বর, ১৯৩৮, মৃত্যু: ২৪ এপ্রিল, ২০১৮) একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সাংবাদিক। তিনি ছাত্র অবস্থায় জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাগারেও যান। বাংলাদেশের কাব্যসাহিত্যে তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন। কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, সম্পাদনা, শিশুসাহিত্য মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা পঞ্চাশের বেশি। সম্পাদনা করেছেন দুই বাংলার কয়েকটি স্বনামধন্য পত্রিকা। ভূষিত হয়েছেন একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারেও। ছিলেন বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো। শিশু-কিশোরদের জন্য তিনি লিখেছেন সাড়ে বত্রিশ ভাজা, সপ্তরতেœর কাণ্ডকারখানা, সবুজ ভাষার ছড়া ইত্যাদি। নিজের লেখার পাশাপাশি হোর্হে লুই বোর্হেস, পাবলো নেরুদা, ডিলান টমাস, অক্টাভিও পাজের মতো কবিদের লেখা অনুবাদ করেছেন। এ ছাড়া বেশকিছু স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনাও করেছেন তিনি। তার জন্ম ফেনী জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত শর্শদি গ্রামে। তার বাবা রফিকউদ্দিন আহমাদ চৌধুরী ও মা মুনীর আখতার খাতুন চৌধুরানী। ষাট ও সত্তরের দশকে কয়েক বছর কলকাতায় বসবাসের সময় সাহিত্য পত্রিকা কৃত্তিবাস সম্পাদনায় যুক্ত হন কবি। পরে পল্লীবার্তা, সচিত্র সন্ধানী ও ভারত বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদনায় যুক্ত হন। বল্লাল সেন, ময়ূর বাহন, সবুক্তগীন ছদ্মনামেও তিনি লিখেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃক প্রকাশিত ভারত বিচিত্রা পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে নিষাদ প্রদেশে, আত্মপ্রতিকৃতি, স্থির জীবন ও নিসর্গ, জলবিষুবের পূর্ণিমা, সেলাই করা ছায়া, কবিতার কমলবনে, বত্রিশ নম্বর, যে ধ্বনি চৈত্রে শিমুলে, বিদায়ী চুমুক উল্লেখযোগ্য। তার কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল, ডুমুরপাতার আবরণ, চেতনার রং চন্দ্রশিলা এবং লাকসাম দাদা ও অন্যান্য গল্প। তিনি কলকাতা থেকে ১৯৭৪ সালে দেশে ফিরে আসেন। যোগ দেন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। সে সময় জাতীয় কবিতা পরিষদ ও পদাবলী কবিতা সংগঠন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে তাকে একুশে পদক দেয়া হয়। অন্য পুরস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, নীহাররঞ্জন স্বর্ণপদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার। এ ছাড়ও কবিতার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন নানা সম্মাননা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মো. বিল্লাল হোসেন

পথ চলতে ফোন নয়

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

অর্থনৈতিক মুক্তির পথে বাংলাদেশ

কামাল লোহানী

বিষম দইরার ঢেউ

সুধীর বরণ মাঝি

আমি ব্যথিত আপনি?

Bhorerkagoj