ধর্ষণের শিকার গৃহকর্মীর গর্ভপাত করে শিশু হত্যা : ধর্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গৃহকর্তার ছেলের হাতে ধর্ষণের শিকার অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মীর অবৈধ গর্ভপাত ঘটিয়ে শিশু হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক, গৃহকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। অপরদিকে মাদারীপুরের কালকিনিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ বছরের এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) : গৃহকর্তার ছেলের হাতে ধর্ষণের শিকার অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মীর অবৈধ গর্ভপাত ঘটিয়ে শিশু হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক, গৃহকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহরাস্তি পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড ভিংরা পাটোয়ারী বাড়িতে।

ঘটনার শিকার বিধবার স্বজনরা জানান, পাটোয়ারী বাড়ির দিনমজুর প্রায় তিন বছর আগে এক বাকপ্রতিবন্ধীসহ দুই মেয়ে সন্তান রেখে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের ভোরণপোষণের লক্ষ্যে বিধবা মহিলা একই বাড়িতে আবুল খায়ের বাসারের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন। কিন্তু গৃহকর্তার ছেলে সাফায়েত উল্যাহ রাকিব (২০) বিধবা মহিলাকে বিতাড়িত করার ভয় দেখিয়ে কয়েকবার ধর্ষণ করে। এতে বিধবা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

এ কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে গৃহকর্তা ও ধর্ষণের শিকার বিধবার জা তাকে গত ৫ নভেম্বর পরিবার পরিকল্পনার মাঠকর্মী মাহমুদা আক্তার বিউটি বেগমের কাছে নিয়ে যান গর্ভপাত ঘটানোর জন্য। বিউটি পুরো রাত চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরদিন ৬ নভেম্বর গৃহকর্তা ঘটনা গোপন রেখে বিধবাকে গর্ভের সন্তান সংকটাপন্ন অবস্থায় শাহরাস্তি জেনারেল (প্রাথমিক) হাসপাতালে ভর্তি করান। কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্স দ্রুত রোগীকে সেবা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে একটি মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করান।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় কিছু টাউট-বাটপার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লাগে। বিষয়টি থানা পুলিশ অবগত হয়ে ঘটনাস্থলে যায়। ধর্ষণের শিকার বিধবার চাচাতো ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ ও শিশু হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৭, তারিখ ০৭-১১-১৯।

শাহরাস্তি থানার ওসি মো. শাহ আলম এলএলবি জানান, এ বিষয়ে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে ধর্ষক, গৃহকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনার মাঠ কর্মীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। তারা সবাই পলাতক রয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ বছরের এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ধর্ষণের ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে ভিকটিম বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোপালপুর এলাকার পশ্চিম বনগ্রাম গ্রামের রেজ্জেক বেপারীর বখাটে ছেলে মো. রেজাউল ইসলাম বাবু একই গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে বিগত কয়েক মাস ধরে মেলামেশা করে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকি বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণও করা হয়। ধর্ষক রেজাউল ইসলাম বাবু ওই গৃহবধূকে বিয়ের আশ্বাস দিলে গৃহবধূ তার স্বামীকে তালাক দেন। তালাকের পর বিয়ের করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে অসহায় ধর্ষিতার পরিবার। কিন্তু বিয়ে করতে অস্বীকার করে ওই লম্পট ধর্ষক।

পরে নিরুপায় হয়ে ধর্ষিতা বাদী হয়ে মাদারীপুর কোর্টে একটি ধর্ষণ মামলা দয়ের করেন। মামলার খবর পেয়ে স্থানীয় মাতুব্বররা সালিশ মীমাংসার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এ বিষয়েও ভিকটিম বাদী হয়ে কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

নির্যাতিতার মা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে বাবু তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। মেয়েকে বিয়ে করবে বলায় সে তার স্বামীকে তালাক দিয়েছে। এখন বিয়ে করতে চায় না, তাই আমরা মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলার ডাসার থানার ওসি (তদন্ত) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে ধর্ষণের মামলা নাকি আদালতেও হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj